অজিদের অসহায় আত্মসমর্পণ

দেখতে দেখতে অজিদের সাথে পাচ ম্যাচ টি ২০ সিরিজ শেষ করল টাইগাররা। সেই সাথে মুখে এক চিলতে সোনালি হাসি নিয়েই পরবর্তী টি২০ সিরিজের জন্য প্র্যাকটিস শুরু করেছে বাংলার বাঘেরা। আর হাসবেই না কেন তারা যে সিরিজ জিতেছে তাও আবার ক্রিকেটের নবাব খ্যাত মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। নিজেদের ঘরের মাটিতে এভাবে দাপটে সিরিজ জয় টাইগার শিবিরে আলাদা সাহস যোগাবে তা আশা করাই যায়। তারপরও সব টুর্নামেন্টের মতোই এই টুর্নামেন্টেও কিছু ভুল চোখে পড়েছে যে ভুলগুলো শুধরে নিলে আরও ভালো কিছু পাওয়া যাবে বাংলার বাঘেদের থেকে। ক্যাঙ্গারুদের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ টি ২০ সিরিজের প্রতিটি ম্যাচকে কাটা ছেড়া করা হয়েছে।

১ম টি টুয়েন্টি: ম্যাচটি ৩ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬ টায় শুরু হয় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ম্যাচে টসে জিতে সফরকারীরা বাংলাদেশকে ব্যাটিং এ পাঠায়। বোলিং পিচ হওয়ায় খুব একটা সুবিধা করতে পারে না ম্বাগতিকরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩১ রান স্কোর বোর্ডে জমা করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অতিথিরা রীতিমতো নাকানি চুবানি খায়। টাইগারসদের স্পিন যাদুতে আর ফিজের দুর্দান্ত কাটারে অতিথিদের থেমে যেতে হয় ১০৮ রানেই। ১ম ম্যাচ স্বাগতিকরা জিতলেও কোনো ভুল যে ছিল না তা কিন্তু বলা যায় না। বাংলাদেশ সেইদিন আরও কিছু রান বেশি করতে পারত যদি ওপেনিং এ আসা নাইম আর সৌম্যর ব্যাট কথা বলত। তাদের ২ জনের পারফর্ম্যান্স ভালো হলে হয়তো বাংলাদেশের পুজিও বড় হতো। তারপরও ঐ শর্তের দলের বিপক্ষে ১ম ম্যাচেই বাজিমাত করা এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।

২য় টি-টুয়েন্টি: ১ম টি-টুয়েন্টির পরের দিনই একই মাঠে বাংলাদেশ ২য় ম্যাচ মোকাবেলা করে অতিথিদের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে আবারও মাইটি অস্ট্রেলিয়া টসে জয়লাভ করে এবং ব্যাটিং এ নামেন। হয়তো ভেবেছিলেন ১ম ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে জিততে পারলে আমরা কেন নয়। কিন্তু যেরকম চিন্তা ছিল ক্যাপ্টেন ওয়েড এর সেরকমভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে নি ব্যাটসম্যানরা। অজিদের ব্যাটিং ইনিংস মাত্র ১২১ রানেই গুটিয়ে যায়। ১২১ রানের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে ১ ওভার ২ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌছে যায়। কিন্তু সেদিনও কপাল পোড়া ছিল সরকার। তার ব্যাট থেকে সেদিন কোনো রানই দলের জন্য যোগ হয় নি। ১ম ম্যাচ জিতানোর নায়ক অর্থাৎ বোলাররাই সেদিনও চালকের আসনে ছিল।

৩য় টি – টুয়েন্টি: প্রথম ২টি ম্যাচে টানা জয় যেন টাইগরদের আলাদা সাহস এনে দিয়েছিল। যেটি বোঝা যায় ব্যাটিং এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে কম রান করেও জয়লাভের আশা করা থেকে। বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ১২৮ রানের মামুলী টার্গেট তাড়া করতে নেমে সফরকারীরা থেমে যায় মাত্র ১১৭ রানে। সেদিন কাটার মাস্টার ফিজের দুর্দান্ত বোলিং বাংলাদেশকে জয়ের দোড়গোড়ায় নিয়ে যায় বলতে গেলে। সেই দিন ফিজের মাত্র ৯ রানের কিপ্টে বোলিং ক্যাঙ্গারু বাহিনীকে রীতিমতে নাকানিচুবানি খাওয়ায়। এই ম্যাচটি জিতে যাওয়ার মাধ্যমে টাইগাররা ২ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয়লাভ করে এবং ক্যাঙ্গারুদের অহংকার দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দেয়।

৪র্থ টি- টুয়েন্টি: বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ সেদিন টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু স্টার্কবিহীন অজি বাহিনী ঠিকই সেদিন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের লাগাম টেনে ধরে এবং বাংলাদেশ থামে মাত্র ১০৪ রানে। জবাবে সফরকারীরা ব্যাট করতে নেমে টাইগার ঘূর্ণিজাদুতে প্রথমে দিশেহারা হয়ে যায়। কিন্তু বিশ্বসেরা নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডারের ওভারে ঘটে অঘটন। ৬ বলের পাচটিতেই ছক্কা হাকায় বিগ ব্যাসের প্লেয়ার ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান। ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে বোলিং স্পেল ছিল সেদিন কিং এর। ৪ ওভারে কোনো উইকেট ছাড়াই দিয়েছিলেন ৫০ রান। ক্রিকেট ভক্তরা সাকিবের ঐ বিভিষীকাময় ওভারকে দোষ দিলেও কাপ্তান মাহমুদুল্লাহ বললন ভিন্ন কথা। তার চোখে ব্যাটিং ভালো করতে পারে নি সেদিন বাংলাদেশ। ১৫/২০ রান কম হয়ে গিয়েছিল সাইলেন্ট কিলারের মতে।যার ফলে ১টি ম্যাচ হাত থেকে ফসকে যায়। তারপরও ১০৫ রান মোকাবেলা করতে ভালই দম ফেলতে হয়েছিল ক্যাঙ্গারুদের।

শেষ টি-টুয়েন্টি: সাকিবের সিরিজের সর্বশেষ খেলা নিয়ে গুন্জন থাকলেও অবশেষে নবাবকে মাঠেই দেখতে পাওয়া যায় এবং তিনি সেদিন রীতিমতো যমরাজ হয়ে যান অস্ট্রেলিয়াদের জন্য। সেই সাথে নিজের ক্যারিয়ারের টি-টুয়েন্টিতে ১০০ তম উইকেট এবং ১০০০ রান সম্পন্ন করেন। সাকিব সেদিন একাই নেন ৪ উইকেট ৩.৪ ওভার বোলিং করে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের এমন আগ্রাসী বোলিং এ অজিদের মাত্র ৬২ রানে থামতে হয় যা তাদের টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনবম্ন দলীয় রান। এর বাংলাদেশ টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয়। বাংরাদেশ প্রথম ৪ ওভারে ভালো করলেও অজিদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং এ বাংলাদেশকোণঠাসা হতে থাকে এবং দলীয় সংগ্রহ দাড়ায় ১২২ রান।শেষ ম্যাচে পুরো সিরিজ জুড়েখারাপ পারফর্ম করা সৌম্যকে নামানো হয় ৪ নম্বরে। কিন্তু তাতেও বেশি কিছু পরিবর্তন হয় না তার। মাত্র ১৩ রান করেই সাজঘরে হাটতে হয় সৌম্যকে। এই পুরো সিরিজে ব্যাটসম্যান হিসেবে সবচেয়ে কম রান এর তকমা তারই নামের পাশে যা তার জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য খুবই চিন্তার বিষয়।

Leave a Comment

error: Content is protected !!