ইংরেজি কেন পড়বো ??

ইংরেজি কেন পড়বো ??

English

বর্তমানে কর্পোরেট লাইফে ইংরেজির যে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে তা নিয়ে মনে হয় আমাদের আলাদা কোনো আলোচনার দরকার পড়ে না। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে আজ ইংরেজি লাগছে না। ইংরেজি এমন একটি গ্ল্যামারাস সাবজেক্ট যার চাহিদা দিন দিন কেবল শুধু বেড়েই চলেছে। বৈশ্বিক যোগাযোগের ভাষা হিসেবে ইংরেজি এখন শুধু চাকরি জীবনেই নয় বরং ব্যক্তিজীবনেও নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। প্রতিটি সেক্টরে এখন ইংরেজি জানা লোকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্মার্ট চাকরির সাথে সাথে স্মার্ট স্যালারির জন্য ইংরেজি জানা এখন অপরিহার্য একটি বিষয় রয়েছে।

 

উচ্চমাধ্যমিকের পর আপনি যেকোনো ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন। সায়েন্স, আর্টস কিংবা কমার্স যেকোনো ডিপার্টমেন্ট থেকেই আপনি ইংরেজি নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে পারেন। তবে আমরা স্কুল বা কলেজ জীবনে যে ইংরেজি পড়ে আসি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর লেভেল এই ধরনের ইংরেজি পাওয়া যায় না, বরং বেশ ব্যতিক্রম একটি কারিকুলাম নিয়ে পড়তে হয়। প্রথম প্রথম কম্পউটার বা বেসিক ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে আলোচনা করা হলেও দ্বিতীয় বর্ষ থেকে পুরোপুরি সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করা হবে। সাহিত্যের একদম গভীর আলোচনা নিয়ে ঘাটাঘাটি করা হবে। তাই আপনার যদি সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ থাকে বা প্রথম থেকে ইংরেজি সাহিত্য পড়ার প্রতি টুকটাক আগ্রহ থেকে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে আপনি ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। 

 

শুরুতে ইংরেজি বিষয়টা একটু কঠিন মনে হতে পারে। কেন্না তখন আপনার ম্যাথ, প্রব্লেম সলভিং, কম্পিউটার এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। আর প্রথম হওয়ায় এগুলোতে ইংরেজি ধরতেও একটু সময় লাগবে। তবে ধীরে ধীরে যখন সাহিত্যের দিকে যাবে তখন ইংরেজি বিষয়টা বেশ সহজই মনে হবে। কেননা তখন আর নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে পড়তে হবে না। সাহিত্যের দর্শন, কেন একজন মানুষের সাহিত্য পড়া উচিত, আপনার জীবন দর্শন, বিখ্যাত সব উপন্যাস, প্রাচীন ইতিহাস এসবই তখন পড়ার বিষয় থাকবে আর আপনি পড়তে বেশ আগ্রহীও হবেন যেহেতু এতে একাডেমিক বই না পড়ে বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন সময়ের, বিভিন্ন জনরার বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আর ইংরেজির টোন একবার ধরে ফেলতে পারলে এর থেকে সহজ বিষয় তখন আর কোনো কিছু মনে হবে না। 

 

ইংরেজি নিয়ে স্নাতক শেষে ক্যারিয়ার গড়তে কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না। ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রিধারীর চাকরির বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্যাঙ্ক কিংবা বিমা ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসিং এবং যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা সব জায়গায় ইংরেজি পড়ুয়া শিক্ষার্থীর চাহিদা রয়েছে। কর্পোরেট কমিউনিকেশন, বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় ইংরেজির প্রয়োগ শিক্ষণ, বাণিজ্যিক সংস্থায় কনটেন্ট রাইটিং এবং বিজনেস এনালাইসিস বা এই ধরনের কাজে একজন ইংরেজি জানা ব্যক্তির চাহিদা তুলনামূলক বেশিই থাকে। 

 

আর যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইংরেজির চাহিদা তো রয়েছেই। হোটেল এন্ড রিসোর্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব, রিসিপশনিস্ট, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল গাইড, মিউজিয়াম গাইড সহ এমন অনেক সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই সাথে বিনোদন জগত তো আছেই। সিনেমার পরিচালনা, সম্পাদনা, সিনেমাটোগ্রাফি, স্ক্রিপ্ট লেখা, অভিনয়, ফিল্ম রিভিউ, গ্রাফিক ডিজাইন, ফ্যাশন শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইংরেজি জানা লোকদের কদর এখন সর্বাধিক। সাংবাদিকতা, সংবাদপাঠ, সঞ্চালনা, সম্পাদনা, জনসংযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলিতে ইংরেজির স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ছেলেমেয়েদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে এখন বেশ কিছু নিউজ ও টিভি চ্যানেল গড়ে উঠছে যেগুলো ইংরেজিতে সংবাদ প্রচার করে। তাছাড়া অনলাইন বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল কিংবা ফ্যাশন সাইট বা ব্লগিং সাইট তো আছেই। এগুলোর জন্য এখন ইংলিশ জানা লোকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন জগৎ, বিপিও, এনজিও সংস্থা ইত্যাদি ছাড়াও আর বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ রয়েছে। সাহিত্য, নৃতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, নিউরো লিঙ্গুয়িস্টিক্স, আর্ট এবং আর্কিটেকচার, জেন্ডার, শিশুসাহিত্য, কল্পসাহিত্য, থিয়োলজি, দলিত সাহিত্য, কালচার স্টাডি ইত্যাদি ছাড়াও আরও বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর কর্মক্ষেত্র হিসেবে একটি বেশ ভালো জায়গা করে নিয়েছে। ঘরে বসেই আপনি ইংরেজি জানলে দেশি বিদেশি নানা ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করে দিতে পারছেন। তাদের ওয়েবসাইটের জন্য ইনফরমেটিভ কিংবা রিসার্চ বেইজড কোনো আর্টিকেল বা ব্লগ লিখেই আপনি ঘরে বসে আয় করতে পারছেন। আর ইংলিশে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষে শিক্ষকতার মতো মহান পেশাতেও নিজেকে নিয়োজিত করতে পারছেন। বিসিএস এও ইংরেজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে আপনি প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজ বা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবেও ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারছেন।

 

বাংলাদেশের যেকোনো পাবলিক কিংবা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। বাইরে ইংরেজি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্যও অনেকগুলো স্কলারশিপ সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা হতে দেওয়া হচ্ছে। ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করলে স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি উচ্চ মানের বেতনও পাওয়া যায়। সুতরাং উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ইংরেজি হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ একটি বিষয়।

Leave a Comment

error: Content is protected !!