2. কেন পড়বো ইংরেজি ?

2. কেন পড়বো ইংরেজি ?

Subject Review : English

আমাদের সবার ছোটবেলা থেকে ইংরেজী প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ কাজ করে, তাই না? ইংরেজি শুধু একটি ভাষা নয়, এটি একটি বিষয় ও বটে।

এবার আসা যাক কোথায় প্রথম ইংরেজি পড়ানো শুরু হয়?
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা প্রায় এক হাজার বছর আগে শুরু হলেও অনেকই জেনে অবাক হবেন যে মাত্র দেড়শ বছর পূর্ব থেকে ইংরেজি পড়ানো শুরু হয়। এর পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটে।

ইংরেজি বিষয় নিয়ে পড়াশুনা :
ইংরেজি বিষয়ের স্নাতক কোর্সটি চার বছরের হয়ে থাকে এবং স্নাতকোত্তর কোর্সটি এক বছর মেয়াদের হয়ে থাকে। বিভিন্ন সরকারি-বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে পড়াশুনা করা যায়। ইংরেজি নিয়ে পড়তে সাহিত্য ও ভাষা ছাড়াও অনেক বিষয় নিয়ে আপনাকে পড়তে হবে Poetry (কবিতা), Story (গল্প), Novel (উপন্যাস), linguistic (ভাষাত্ত্ব), Theory ( তত্ত্ব), Principal and method of teaching literature ( সাহিত্যের মূখ্য বিষয় শিখানো), English languages writing, reading, and speaking ( ইংরেজি ভাষা নিয়ে লেখাপড়া এবং বলা), Philosophy (দর্শন), Anthropology (সাহিত্য সংকলন), Cultural studies (সংস্কৃতি বিষয়ে), Media & Film ( গণমাধ্যম ও সিনেমা)।এছাড়া আরো কিছু ঐচ্ছিক বিষয় পড়ানো হয়।

ইংরেজি পড়ে ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র :
আমাদের দেশের কিছু মানুষের ধারণা এই যে ইংরেজি পড়ে শিক্ষকতা ছাড়া কিছুই করতে পারবেন না। তাদের ও জানা উচিত তাদের এই বিষয়টি পড়ে আপনি কোন কোন ক্ষেত্রে আপনার অবদান রাখতে পারবেন। ইংরেজি নিয়ে পড়ে আপনি একজন দোভাষী হিসাবে কাজ করতেপারেন ।এ খন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে দোভাষী কি? বিশ্বে প্রায় সব দেশ ও অঞ্চলের নিজেস্ব মাতৃভাষা রয়েছে কিন্তু ইংরেজি এমন একটি ভাষা যার প্রচলন সব জায়গাতেই আছে। সবাই তো ইংরেজি তে পারদর্শী নয়। তাই আপনি যখন একজন ভিন্ন ভাষার মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে যাবেন তখন কিন্তু একজন দোভাষীর প্রয়োজন পড়বে।মার্কেটিং ও এডভার্টাইজিং অনেকই ভাবতে পারেন ইংরেজি তে পড়ে এই ক্ষেত্রে আমরাও কাজ করতে পারি?জি আপনি এই কাজ করতে পারবেন।এখন বলছি কিভাবে এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার অবাধ বিচরণ করতে পারেন। মার্কেটিং এ কাজ করতে গেলে আপনাকে অনেক ভাষাভাষি লোক জনের সাথে কমিউনিকেট করতে হবে তার জন্য অবশ্যই আপনাকে ইংরেজি জানতে হবে।এডভার্টাইজিং এর ক্ষেত্রে ডাবিং এর প্রয়োজন কতটা তা আমরা সবাই জানি।আর ইংরেজির যে কতটা প্রয়োজন তা বলা বাহুল্য রাখে না। পাবলিক রিলেশন ম্যানেজমেন্ট এই বিষয়ে কাজ করতে গেলে ইংরেজি সম্পর্কে আপনার ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।কারণ ভিন্ন লেভেলের মানুষের সজ্ঞে আপনাকে কাজ করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এখানে ইংরেজিতে পড়ে ভালো কাজের সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির সোশ্যাল মিডিয়া পেজ হেন্ডেল করার জন্য ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ লোক নিয়োগ করে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করতে গেলে আপনাকে ভালো ইংরেজি জানতে হবে,কারণ আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন ক্লাইন্ট এর সাথে কাজ করতে হবে।এছাড়াও বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশন, নিউজ প্রেজেন্টার, বিসিএস সরকারি-বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতে পারেন।

ইংরেজিতে পড়ে খণ্ডকালীন চাকরি:
অনেকেই ভাবে আমরা ইংরেজি পড়ার পাশাপাশি কি কি কাজ করতে পারি তা অনেকেরই জানা নেই। কাজগুলো হলঃ হোম টিউটর এর অর্থ কারো বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ানো।এখন কিন্তু ইংরেজি চাহিদা অনেক, সব বাবা মার চাওয়া তার সন্তান যেন এই বিষয় নিয়ে অনেক জানে।এখনকার সময়ে অনলাইন ইংরেজি কোর্স এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কোভিড নাইন্টিন মহামারির সময়। ব্লক রাইটিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজকাল অনেক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা হয়।প্রফেশনালি এই দিকগুলো নিয়ে কাজ করা যেতে পারে।বই লেখা আমাদের অনেকের লেখার অভ্যাসটা রয়েছে।যদি সেই অভ্যাসটাকে কাজ হিসাবে বেছে নিতে পারলে ভালোই হয়। ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রানসলেশন অর্থ ভাষাঅনুবাদ এই কাজ এখন বেশ জনপ্রিয়।কনটেন্ট রাইটিং, আমি নিজেও একজন কনটেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করি। কাজ হিসাবে একেবারে ফেলনা নয়। অনলাইন কনসালটেন্ড এখানে নানা বিষয়ে আপনি মানুষকে সমাধান দিতে পারেন। এগুলো ছাড়া বিভিন্ন ইভেন্টে প্রেজেন্টার হিসাবে কাজ করতে পারেন। টকশো বা টিভি প্রগামে হোস্ট হয়ে কাজ করা যেতে পারে।

IELTS :
IELTS ( International English Language Testing System) আপনি যদি বিদেশে যেয়ে পড়তে চান তাহলে IELTS লাগবেই। লেখা (writing), পড়া (reading), শোনা(listening), বলা (speaking) এই চারটি বিষয়ে আপনাকে পরীক্ষা দিতে হবে। আপনাকে IELTS উত্তীর্ণ হতে হলে ৬ পয়েন্ট লাগবে।আপনি যদি ( IELTS ৭-৯ ) পেয়ে থাকেন,তাহলে আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞ বলা হবে। IELTS মোট পয়েন্ট ৯।

স্কিল ডেভলপমেন্ট ও এক্সটা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি :
আপনি যেই বিষয়েই পড়াশুনা করেন না কেন তার পাশাপাশি কিছু বিষয়ের উপর বিশেষ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। কম্পিউটারের অফিস এপ্লিকেশন। যেমনঃ এম এস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট।এছাড়াও অ্যাডভান্স অ্যাক্সেস। পাবলিক স্পিকিং এন্ড প্রেজেন্টেশন স্কিল, কমিউনিকেশন স্কিল আপনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতাই অংশ গ্রহণ করতে পারেন।ডিবেটিং, স্পিকিং , প্রেজেন্টেশন, কুইজ,এসএ কম্পেটিশন, ইত্যাদি।

ইংরেজি পড়ানোর ধরন পরিবর্তন :
যুগের চাহিদা অনুযায়ী অনেক বদল এসেছে এই বিষয়ে।আগে শেক্সপিয়ার, জন মিল্টন,জন অস্টিন,বায়ারন দের আধিপত্য দিন দিন কমছে।আর যাদের দাপট বাড়ছে চমস্কি,মিশেল ফুকো,হড ওয়ার্ড, সাইড, গায়ত্রী, সিদভাক। এছাড়াও সিলেবাসে আমুল পরিবর্তন এসেছে।কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ইংরেজি পড়ানো হয়।
ইয়ালি ইউনিভার্সিটি (আমেরিকা), হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি, পেনিটন ইউনিভার্সিটি (আমেরিকা), অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

ইংরেজিতে স্কলারশিপ :
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রায় প্রতিবছর এই বিষের উপর হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। যেসব দেশে গুলো বেশি মেধাবৃত্তি দেয়ঃ আমেরিকা,ব্রিটেন,অস্ট্রেলিয়া, কানাডা,মালেশিয়া,ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক। ইংরেজি বিষয়ে পড়ে আপনাকে যে ব্যাকরনবিদ হতে হবে এমনটি নয়। নতুন অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে ও জানাতে পারবেন ইংরেজি পড়ে।আসলে ইংরেজি অনেক মজার একটি বিষয় যা আপনাকে আনন্দ ও পরিতৃপ্তি দিবে। আজকাল প্রায় সবাই চায় তার সন্তান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার বা কোন কোম্পানির সিইও হোক। কিন্তু যে পেশা আপনাকে কখনো তুষ্ট করে না সেই কাজে আপনি কখনই সফল হতে পারবেন না ।তাই আপনি যদি ভালোবেসে ইংরেজি পড়তে চান তাহলে পড়েন। কারণ এটা আপনার ভালো লাগা। ভালো লাগা থেকে নেশা আর নেশা থেকে পেশা ওই কাজেই আপনি একজন সফল মানুষ হিসাবে পরিচিত পেতে পারেন।আপনার সৃষ্টিকর্তা আপনার ভবিষ্যৎ ঠিক করেছেন, সব সময় নিজের প্রতি বিশ্বাস ​রাখুন ও নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

Leave a Comment

error: Content is protected !!