Friday, January 27, 2023

Latest Posts

কেন পড়বো ফার্মেসি ??

কেন পড়বো ফার্মেসি ??

Pharmacy

ফার্মেসি স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের এমন একটি বিশেষ শাখা যেখানে মূলত রসায়নের সাথে জীববিজ্ঞান একটি যোগসূত্র হিসাবে কাজ করে। মুলত বিভিন্ন ঔষধ ও কসমেটিকসের প্রস্তুতি, এদের নিরাপদ ব্যবহার ও সঠিক বিতরণ নিয়ে এই বিষয়টিতে গবেষণা করা হয়ে থাকে। একজন ফার্মাসিস্ট ঔষধ উৎপাদন ও সংরক্ষণ,ঔষধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য বিতরণ, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও চিকিৎসাগত সঠিক প্রয়োগ ইত্যাদি গবেষণা করে থাকেন ও সেবা দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে ফার্মেসি একটি।

 

বাংলাদেশের অন্যান্য বিষয়গুলোতে যেখানে ৪ বছরে অনার্স শেষ করে আপনি মাস্টার্স শুরু করতে পারছেন সেখানে ফার্মেসি তে পড়ে আপনার ৫ বছর লাগবে অনার্স শেষ করতে। ফার্মেসিতে যাকে বলে ফার্ম ডি। এরপর চাইলে আপনি ২ বছরের মাস্টার্সে অংশ নিতে পারেন। তবে ফার্মেসি বিষয়ে পড়াশোনা করতে হলে অবশ্যই আগে থেকে রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান এই দুই বিষয়ের উপর আপনার ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। কেননা প্রাণীদেহে নানা পরীক্ষা, কোন কেমিক্যাল কোন অঙ্গে কাজ করছে এমন নানান সব জটিল বিষয় ফার্মেসি পড়তে গেলে পাবেন।

 

ফার্মেসী এর প্রধান শাখা গুলো হলো-

১- হসপিটালিটি / ক্লিনিকাল ফার্মেসি

২- ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ফার্মেসি

৩- কমিউনিটি ফার্মেসি

৫-নিউক্লিয়ার ফার্মেসি

৬- অনলাইন ফার্মেসি

৭- ভেটেরিনারি ফার্মেসি

 

এই শাখাগুলোর মধ্যে যা পড়ানো হয় তার মধ্যে রসায়ন এর অংশ হিসেবে রয়েছে inorganic/ organic/ physical/ Analytical/ Medicinal রসায়ন। মানবদেহ নিয়ে যা পড়ানো হয় তার মধ্যে রয়েছে Physiology/ Anatomy। ওষুধবিদ্যাতে Pharmacognosy / Pharmacology / Pharmaceutical technology / Quality control / Pharmaceutical Engg / Biopharmaceutics নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে এবং লাইফ সাইন্স এর অন্যান্য বিষয় যেমন Microbiology / Biochemistry / Biotechnology ও Hospital pharmacy / Clinical pharmacy, Statistics সহ আরও কিছু বিষয় নিয়েও এই শাখাগুলোতে আলোচনা করা হয়। 

 

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ চালু হয় এবং এর পর থেকে এর জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে কেবল বেড়েই চলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ শুরু হয়। বর্তমানে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি পড়ানো শুরু হয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক, স্টেট, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট, ব্র্যাকসহ আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি চালু রয়েছে। 

তাছাড়া ইউরোপ আমেরিকার বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি নিয়ে পড়া যায়। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এতে সবার আগে থাকবে। তবে এতে পড়াশোনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিধায় স্কলারশিপ ছাড়া সেখানে পড়াশোনাটা বেশিরভাগের পক্ষেই সম্ভব না।

 

ফার্মেসিতে পড়াশোনা করে চারটি সেক্টরে ডিগ্রি নেওয়া যায়।

১. ডি ফার্ম বা ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি

২. বি ফার্ম বা ব্যাচেলর অব ফার্মেসি

৩. এম ফার্ম বা মাস্টার অব ফার্মেসি

৪. ফার্ম ডি বা ডক্টর অব ফার্মেসি

ফার্ম ডি এর জন্য আপনাকে ৫ বছরের অনার্স কোর্স শেষ করতে হবে। 

 

ফার্মেসি নিয়ে চাকরির বাজারে তেমন কোনো চিন্তা করতে হয় না। এমনও দেখা যায় ৫ বছরের অনার্স শেষ করে দুই সপ্তাহের মধ্যে অনেকের চাকরি হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ফার্মেসি পড়াশোনা শেষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতার পেশা বেছে নেয় আবার অনেকে দেখা যায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে বের হয়ে ফার্মেসির বিভিন্ন ফিল্ডে গবেষণার কাজে যুক্ত হয়। 

আমাদের দেশে প্রায় ৩০০+ অনুমোদিত ওষুধ কোম্পানি আছে। যারা আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়েও দেশের বাইরে ওষুধ রপ্তানি করছে। এক কথায় বলা চলে আমাদের দেশ ওষুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।  এসব কোম্পানির প্রোডাকশন, প্রোডাক্ট ম্যানেজম্যান্ট, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ট্রেনিংসহ বিভিন্ন বিভাগে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া ফার্মেসি পড়াশোনা শেষে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বাইরের দেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চলে যায়। স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে গেলে সেখানে ক্যারিয়ার গড়া নিয়ে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয় না।

 

ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা আনুষাঙ্গিক সংগ্রহ, সংরক্ষন, প্রস্তুত এবং ওষুধের প্রয়োগ, স্টক নিয়ন্ত্রণ, স্টোরেজ, অর্ডার দেয়া, লেবেল লাগানো, আর্থিক বাজেট স্থাপনের দায়িত্ব গ্রহণ এবং ডিসপেন্সারীর হিসাবরক্ষণ সহ এমন বিভিন্ন ফিল্ডে ফার্মেসি শেষে আপনি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর বাইরে সরকারি নানা দফতর, সরকারি- বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, কমিউনিটি ফার্মাসি, গবেষণাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সুযোগ থাকছে।

ফার্মেসির বিভিন্ন খাতে যেমন চাহিদা আছে তেমনি এর স্যালারিও বেশ ভালো। স্নাতক শেষ করেই যেকোনো চাকরিতে জয়েন করলে বেশ উচ্চ পর্যায়ের একটা স্যালারি আশা করা যায়। আর দিনে দিনে আরও অভিজ্ঞ হলে তো স্যালারি ক্রমান্বয়ে বাড়ার সুবিধা আছেই।

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.

error: Content is protected !!