কেন পড়বো Genetic Engineering?

Subject Review- : GENETIC ENGINEERING

একদিন রাতে তুমি চিন্তা করতেছিলে, তোমার কথা শুনবে এবং তুমি যেভাবে কাজ করতে বলবে ঠিক সেইভাবে কাজ করবে, এমন একটি প্রাণী ডিজাইন করবে!! আদৌ কি এটা সম্ভব? অন্য কোথাও সম্ভব না, তবে তুমি যদি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ো তবে অবশ্যই সম্ভব। একমাত্র এ সাবজেক্টটিতে পরে তুমি মোডিফাই করতে পারবে নিজের পছন্দমত প্রাণী। ডিজাইন করতে পারবে নিজের পছন্দের E-Coli. ব্যপারটা খুবই ইন্টারেস্টিং তাই না?

যেসব গুণাবলি থাকতে হবে এই সাবজেক্ট পড়তে হলে –
– চিন্তাশীল পরিশ্রমী তাছাড়া Biology ও Organic Chemistry ভাল পারতে হবে ভালভাবে চিন্তা করার দক্ষতা থাকতে হবে। যেমন, একবার আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব উয়োমিং এর কিছু বিজ্ঞানী ঠিক করলেন ছাগলের দুধের মধ্যে তিনি মাকড়সার জালের সূতা তৈরি করবেন যা হবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সূতা। তিনি সফল হয়েছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে এবং সৃষ্টি করেছিলেন বায়োস্টীল!

সুতরাং, অদ্ভুদ চিন্তা করতে জানতে হবে। এত অবিশ্বাস্য জিনিস একদিনে আবিষ্কার হয় না। তাই, তোমাকে হতে হবে কঠোর পরিশ্রমী। ল্যাবে দৈনিক ১৫ ঘন্টাও কাজ করতে হতে পারে!

#জেনেটিক_ইঞ্জিনিয়ারিং_এর_ভবিষ্যৎ সে দিন খুব দূরে নয় যখন ডক্টর ও বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা নিরাময়ে জেনেটিক্স এর ইনফরমেশনগুলো ব্যবহার করবে। উদাহরনস্বরূপ, একজন মানুষের জিন তার শরীরের প্রোটিন উৎপন্ন হওয়া থেকে শুরু করে প্রোটিনের বৃদ্ধি, টিকে থাকা, ধ্বংস নিয়ন্ত্রন করে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়াররা সেই জিন এক্সেস করে জিনের Instruction এ পরিবর্তন আনতে পারে। এভাবে যে প্রোটিন টিউমার, ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী সে প্রোটিনই তা নিরাময় করবে। যেখানে বর্তমানে এখনও ক্যান্সার এর কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই সেখানে বুঝতেই পারছো কত বড় দায়িত্ব Genetic Engineer দের উপর।

#নামের_শেষে_ইঞ্জিনিয়ারিং_কেন?
অনেক প্রজাতির জিনের উদ্ভাবন করা মূল বিষয়বস্তু হওয়ায় নানা ধরনেন কৌশল ব্যবহার করার মাধ্যমে, Engineering শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে নামের শেষে।

GENETIC ENGINEERING
এই সাবজেক্টটি মূলত গবেষনাধর্মী এবং ব্যবসামূলক সাবজেক্ট। এ সাবজেক্ট এর সেক্টর দেশ ও বিদেশে বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত। চাকরী থেকে এখানে গবেষণার ক্ষেত্র অনেক বেশী। চাকরীর ক্ষেত্র এ দেশে বেশী না থাকলেও বিদেশে প্রচুর, সেখানে বেতনটাও অনেক বেশি চড়া। তবে বাংলাদেশে ACME, Square, Beximco, Beacon, Global, Eskayef এর মত বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলোতেও রয়েছে ভাল স্যালারিতে জবের সুযোগ।

এছাড়া আমাদের দেশে যেসব জবের সুযোগে রয়েছে তার মধ্যে এগুলো —
– ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (NIB)
–বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BIRRI)
– বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া Aci foods Limited, Transcom Beverages, ifad Multi Products, bombay sweets, Square Food & Baverage, Acme Food & Beverage,, ispahani Foods, এগুলার মত অনেক ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে চাকুরির সুযোগ রয়েছে

নতুন ফ্যাকাল্টি হিসেবে ভাল রেজাল্ট যারা করবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ পাবে। রয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিস্ঠানে সায়েন্টিফিক অফিসার সহ অন্যান্য পদে চাকুরী করার সুযোগ।

অন্য সব সাবজেক্টের মত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (BCS) মাধ্যমে সরকারি চাকুরিজীবি হয়ার সুযোগ তো আছেই। ক্যাডার এবং নন- ক্যাডার উভয় ক্ষেত্রেই আছে ভাল বিদ্যমান। ব্যাংক সহ অন্যান্য প্রাইভেট কোম্পানী তো আছেই। এছাড়াও এই সাবজেক্টের চাকরির ক্ষেত্র সময়ের পরিবর্তনের সাথে দিন দিন বেড়েই চলছে । জেনেটিক্স এ পড়ে অনান্য যেকোন সাবজেক্টের তুলনায় আমেরিকা, ইউরোপের, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান সহ যেকোন দেশে মাস্টার্স সহ ভালো জব ও গবেষণা করতে পারবে ।এছাড়াও পিএইচডি করতে পারবে বিভিন্ন দেশে, যেইটা বর্তমানে বাকি বিষয় গুলার চেয়ে সহজ হবে বাংলাদেশের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হিসেবে ধরা হয়, পাট এবং এর পরজীবী ছত্রাকের জিন নকশা আবিষ্কারকে। এই নকশা কাজে লাগানোটা এ দেশের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারদেরই দায়িত্ব। এ বিভাগের অনেক ছাত্রই বর্তমানে এটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ———————————————————————————–

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সাবজেক্ট পড়ানো হয়,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU-GEB)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (BGE)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (GEB)
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (BGE)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (GEB)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (GEB)
ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় (BGE)
শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (GEB)
মাওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(BGE)
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(GEBT)
নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (BGE)
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (GEB)
সিলেট এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি (BGE)

GEB = Genetic Engineering and Biotechnology
BGE= Biotechnology and Genetic Engineering ———————————————————————————–

যে যে কোর্স পড়ানো হয়ঃ
এই ডিপার্টমেন্টের Course Plan অনুযায়ী Applied Biology ও Genetic Engineering এর দরকারি সব সাবজেক্ট পড়ানো হবে।
বিশেষ কিছু বিষয় হিসেবে পড়ানো হয়ঃ
১. প্লান্ট বায়োটেকনোলজি,
২. এ্যানিমেল বায়োটেকনোলজি,
৩. মাইক্রোবায়াল বায়োটেকনোলজি,
৪. এনভায়রনমেন্টাল বায়োটেকনোলজি,
৫. ফুড বায়োটেকনোলজি,
৬. এ্যাগ্রিকালচারাল বায়োটেকনোলজি,
৭. ফিশারিজ এ্যান্ড মেরিন বায়োটেকনোলজি,
৮. মেডিক্যাল এ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস বায়োটেকনোলজি,
৯. প্লান্ট টিস্যু কালচার,
১০. এ্যানিমেল সেল টেকনোলজি,
১১. বায়োপ্রসেস টোকনোলজি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

Leave a Comment

error: Content is protected !!