জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

জার্মানি মধ্য ইউরোপের শিল্পোন্নত একটি দেশ। প্রায় (১৬) টি রাজ্য নিয়ে এই দেশটি গঠিত। এর রাজধানী ও বৃহত্তম শহর বার্লিন। দেশটির প্রধান ভাষা জার্মান ও মুদ্রা ইয়রো। ইউরোপের সমৃদ্ধশালী দেশগুলোর মাঝে জার্মান অন্যতম। শিল্প,শিক্ষা,অর্থনীতি ও তথ্য প্রযুক্তি সহ প্রায় সবদিকে থেকেই এর অবস্থান শীর্ষে।

উচ্চশিক্ষা নিয়ে যারা দেশের বাইরে বিশেষ করে ইউরোপ এ আসতে চান তাদের প্রথম পছন্দ থাকে জার্মান। এর অন্যতম কারণ জার্মান এ টিউশন ফি এর প্রয়োজন নেই। এছাড়া, এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত্মানের যার ফলশ্রুতিতে দিনদিন জার্মানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আনাগোনা বেড়েই চলছে। আজকের আলোচনায় থাকছে জার্মানে উচ্চশিক্ষার বিস্তারিত তথ্যাদি।

উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানে কেনো আসবেন?
প্রথম কারণ শুরুতেই বলেছি ,টিউশন ফি এর প্রয়োজন নেই।এছাড়া, পড়াশোনা শেষে স্থায়ীভাবে বসবাস ও চাকরি সহজেই এখানে পেয়ে যাবেন।তাই বলে কিন্তু এখানকার পড়াশোনার মান নেহাৎই কম নয়।বিশ্বের সেরা ১০০টি ইউনিভার্সিটির মাঝে বেশ কয়েকটির অবস্থান জার্মানে। এছাড়া, দেশটি বেশ কিছু স্কলারশিপ শিক্ষার্থীদের দিয়ে থাকে। খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ ত থাকছেই সাথে।

জার্মানের সেরা কিছু বিশ্ববিদ্যালয় :
এখানকার বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ উন্নতমানের। নিচে কিছু টপ র‌্যাঙ্কিং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেয়া হলো:
১/টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ।
২/হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়।
৩/লুডভিখ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ
৪/হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন।
৫/কালশ্রুহ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি।
৬/টেকনচেচে ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন।
৭/ফ্রাই ইউনিভার্সিটি বার্লিন।
৮/ইউনিভার্সিটি মুনস্টার
৯/হামবুর্গ ইউনিভার্সিটি ।
১০/ইউনিভার্সিটি অব ফ্রিবার্গ।

কি কি বিষয়/কোর্সে পড়তে পারবেন:
অসংখ্য কোর্স ও বিষয় রয়েছে। যা লিখে শেষ করা যাবে না।তাই অল্পকিছু নাম দেয়া হলো যাতে কিছুটা ধারাণা পেতে পারেন। সাম্যক ধারণা পেতে যে বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়তে আগ্রহী সেখানকার ওয়েবসাইট গিয়ে খোঁজ করুন। Management and Technology physics Sustainable Resources management Software Engineering Transportation System Environmental Engineering Business Informatics Geo-sciences Biology Chemistry Pharmacy Mathematics Biochemistry Bio-economy Bioinformatics Law Economics Business Administration Protestant Theology Catholic Theology Social Science Sport Science

পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:
ভাষাগত ও শিক্ষাগত উভয় ধরনের যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। তবে রেজাল্ট যে খুব ভালো হতে হবে এমনটি নয় কিন্তু। সিজি ৩ হলে আপনি মোটামুটি সেইফ জোনে আছেন। ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য বাংলাদেশের জার্মান স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে ১ বছর পড়াশোনা করে যেতে হবে এবং মোট কোর্স এর ২৫% ক্রেডিট শেষ করতে হবে। মাস্টার্স এর ক্ষেত্রে ব্যাচেলর সার্টিফিকেট হলেই চলবে। ভাষাগত দক্ষতার জন্য ইংরেজি ও জার্মান ভাষা জানা প্রয়োজন। ইংরেজি ভাষার জন্য আইএলটিএস স্কোর নূন্যতম ৫.৫/৬ হলে আবেদন করতে পারবেন। যদিও,বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্নতা রয়েছে। জার্মান ভাষার জন্য বাংলাদেশ এ থাকা গোয়েথ ইন্সটিটিউট এ পরীক্ষা দিয়ে বি -১/বি- ২ স্কোর পেতে হবে।

টিউশন ফি ও স্কলারশিপ :
এখানে একদিকে যেমন টিউশন ফি এর প্রয়োজন হয় না অন্যদিকে স্কলারশিপ এর ব্যবস্থাও রয়েছে । যার মাঝে ডাড স্কলারশিপ খুবই জনপ্রিয়। এছাড়া আরো অনেক স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা রয়েছে।আপনাকে শুধু খোঁজ করতে হবে।

আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র :
আবেদন এর জন্য ব্যাচেলর ও মাস্টার্স এর ক্ষেত্রে কাগজ পত্রে ভিন্নতা রয়েছে।তবে বেসিক যে সকল কাগজ প্রয়োজন সেগুলো হলো:
১/পাসপোর্ট।
২/এস.এস.সি এবং এইচ,এস,সি এর সার্টিফিকেট ও মার্কশিট।
৩/ ব্যাচেলর এর সার্টিফিকেট ও মার্কশিট।(যদি মাস্টার্স এর জন্য আবেদন করতে প্রযোজ্য)।
৪/আইএলটিএস এর সার্টিফিকেট।
৫/জার্মান ভাষা কোর্সের সার্টিফিকেট।
৬/মোটিভেশন লেটার।
৭/রেকোমেন্ডেশন লেটার।
৮/রিসার্চ পেপার(যদি থাকে)
৯/সিভি
সকল কাগজপত্র নোটারাইজড হতে হবে।বাংলাদেশে অবস্থিত জার্মান এম্বাসি কাজটি ফ্রি তে করে দিয়ে থাকে।সেখান থেকে করতে পারেন।চাইলে অন্য জায়গা থেকেও করতে পারেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা :
আবেদনের পূর্বে যে বিষয় বা কোর্সে পড়তে চান কিংবা যে ইউনিভার্সিটি তে আবেদন করতে চান সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে নিবেন।পছন্দের কোর্স খুঁজে পাবার জনপ্রিয় একটি সাইট হচ্ছে ডাড ওয়েবসাইট। সেখান থেকে পছন্দের কোর্সটি সহজেই খুঁজে পাবেন।

জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরাসরি এবং ইউনি এসিস্ট এই দুইভাবে আবেদন করতে পারবেন। ইউনি এসিস্ট হলো একটি প্রতিষ্ঠান যারা নির্দিষ্ট কিছু ফি এর বিনিময়ে আপনার রেজাল্ট যাচাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠাবে।তবে মূল স্বীদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় ই নিয়ে থাকে।

জার্মানে ২টি সেমিস্টার( সামার ও উইন্টার) এ আবেদন করা যায়। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সামার সেমিস্টার এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত উইন্টার সেমিস্টার এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভিত্তিক সময়সীমা এদিক সেদিক হতে পারে।বিস্তারিত আবেদনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখতে পারবেন।

ভিসার জন্য আবেদন :
কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পেয়ে যাবার পর আপনার পরবর্তী কাজ হবে ভিসার জন্য আবেদন করা। এরপর,আপনাকে ১০২৩৬ ইয়রো ব্লক একাউন্ট করতে হবে। যা জার্মান যাবার পর নির্দিষ্ট এমাউন্টে ফেরত দেয়া হবে। অর্থাৎ, সসম্পূর্ণ টাকা টা একসাথে পাবেন না।যদি ভিসা কনফার্ম না হয় তাহলে পুনরায় টাকাটা ফেরত পাবেন।

খণ্ডকালীন চাকরির সুবিধা:
আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের সপ্তাহে ২০ ঘন্টা খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে। অর্জিত অর্থ থেকে সহজেই সকল খরচাদি হয়ে যায়। জার্মান ভাষায় দক্ষতা থাকলে সহজেই চাকরি পেয়ে যাবেন।বেসিক জার্মান ভাষা শিখে গেলে চাকরি পেতে সহজ হবে না হয় ১মাস থেকে ৬ মাস সময় লেগে যায়।

স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ :
জার্মানিতে পড়তে আসা বেশিরভাগ মানুষ এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহী থাকে। দেশটি ও সে সুযোগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দিয়ে থাকে। তবে সেক্ষেত্রে ৫ বছর বৈধভাবে থাকার পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে আপনার পড়াশোনা রিলেটেড একটি ফুলটাইম জব করতে হবে। উপরোক্ত, তথ্যগুলো সর্বদা ধ্রুব থাকবে এমনটি নয়। সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়।

Leave a Comment

error: Content is protected !!