Friday, January 27, 2023

Latest Posts

ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষা

ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষা

উত্তর ইউরোপ এর স্বাধীন একটি রাষ্ট্র ডেনমার্ক। এটি স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ হিসেবে পরিচিত। এর রাজধানী ও বৃহত্তম শহর কোপেনহেগেন। দেশটির প্রধান ভাষা ড্যানিশ। মুদ্রার নাম ডেনিস ক্রোনা। ডেনমার্কের সমগ্র অংশ জুড়েই উপকূলীয় আবহাওয়া বিরাজমান। দেশটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। ডেনমার্ক অত্যন্ত ধনী ও বিলাসবহুল দেশ। দেশটির জনগণ ইউরোপের সবচেয়ে বিলাসবহুল জীবনযাত্রা উপভোগ করে থাকেন। জীবনযাত্রার মান অত্যাধুনিক উন্নত প্রাচীনকাল থেকেই। সমগ্র বিশ্বজুড়ে শিক্ষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প-কারখানা,ফ্যাশন ও চলচ্চিত্র ইত্যাদি খাতে ডেনীয়রা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বর্তমানে অনেকের পছন্দনীয় দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইউরোপের এই দেশটি। দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দিয়ে থাকে প্রচুর বৃত্তি। এছাড়া রয়েছে প্রচুর গবেষণার সুযোগ।

ডেনমার্কে কেনো পড়তে যাবেন?
ইউরোপের অনেক দেশ রয়েছে যেখানে পড়তে যেতে হলে ভালো CGPA,IELTS,GRE/GMAT থাকা সত্ত্বেও আপনি পড়ার সুযোগ না ও পেতে পারেন।সে সব দিক বিবেচনায় আপনি ভালো CGPA ও IELTS স্কোর দিয়ে ডেনমার্কের পড়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া,এখানে রয়েছে বিশ্বরেঙ্কিং ভুক্ত অনেক ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়। পড়ার মান অনেক উন্নত দেশের তুলনায় অনেক ভালো। এছাড়া, এদেশে ভিসা কেন্সেল হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

ডেনমার্কের সেরা কিছু বিশ্ববিদ্যালয়:
১/কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়।
২/ডেনমার্কে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
৩/ ফ্রেডেরিক্সবার্গ কোপেনহেগেন বিজনেস স্কুল।
৪/কোপেনহেগেন আইটি বিশ্ববিদ্যালয়।
৫/আরহুস বিশ্ববিদ্যালয়।
৬/রোসকিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
৭/দক্ষিন ডেনমার্ক বিশ্ববিদ্যালয়।
৮/আলবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়।
৯/ কোপেনহেগেন বিজনেস একাডেমি
১০/ জিল্যান্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ।

কোর্স সমূহ:
আপনি কোন বিষয়ে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়তে চান এবং যে বিষয়ে পড়বেন ডেনমার্কে সে বিষয়ে চাকরির বাজার কেমন, সেসব দিক বিবেচনা করে কোর্স এর জন্য আবেদন করতে হবে।এছাড়া,মাথায় রাখা উচিৎ আপনি কি পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশ ফিরে আসবেন নাকি ডেনমার্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন!কারণ,ডেনমার্ক এবং আমাদের দেশে চাকরির বাজার ভিন্ন। স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রীর জন্য রয়েছে কয়েকশো বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ।

বিষয়গুলোর মাঝে অন্যতম হলো:
ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, সামুদ্রিক বিজ্ঞান,জীববিজ্ঞান, ভেটেনারি, এস্ট্রোনমি, অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োটেকনোলজি, ডিজিটাল মিডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং, এপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, আইসিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজিস, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিকস, একাউন্টিং এন্ড ফিন্যান্স, ফ্যাশন এন্ড টেক্সটাইলস ডিজাইন, ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ ইত্যাদি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন যোগ্যতা :
ডেনিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডেনিশ কিংবা ইংরেজি দুইভাষাতেই পড়তেন পারবেন।ডেনিশ ভাষায় পড়তে হলে Danish Test 2 পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হতে হবে। আর যদি ইংরেজী ভাষায় পড়তে চান, তাহলে IELTS এ নূন্যতম স্কোর (5.5 – 6.5) থাকতে হবে এবং একাডেমিক পরীক্ষায় অবশ্যই ৫০% নম্বর থাকতে হবে। আপনি যদি ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জনের জন্য যান, তাহলে HSC + ১ বছর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে হবে। আন্যদিকে,মাস্টার্সে আবেদনের জন্য ৪ বছরের ব্যাচেলর এবং পিএইচডি পড়তে যেতে আপনাকে ২ বছরের মাস্টার্স থাকতে হবে।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র :
১। একাডেমিক সকল সার্টফিকেট এবং মার্কশীট।
২। IELTS এর সনদ।
৩। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার।
৪। সিভি।
৫। পাসপোর্টের কপি।

আবেদনের সময়সীমা :
বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভিত্তিক সময়সীমায় ভিন্নতা রয়েছে। তবে আবেদনের সময়সীমা জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকে এবং সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাশ শুরু হয়ে যায়।ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট গুলোতে খোঁজ নিলে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পেয়ে যাবেন।

টিউশন ফি:
ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি অনেক বেশি। প্রায় ৬ থেকে ১৬ হাজার ইউরো।বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভিত্তিক টিউশন ফি কম-বেশি হতে পারে। ডেনমার্কে পড়তে গেলে ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে হয় না।তবে স্পাউস নিয়ে গেলে নির্ধারণ পরিমাণ অর্থ দেখাতে হয়।

স্কলারশিপ :
ডেনমার্কে বিভিন্ন ধরনের সরকারি স্কলারশিপ চালু রয়েছে। স্কলারশিপগুলোর সুবিধা হলো আপনার টিউশন ফি এর পাশাপাশি মাসিক খরচও পেয়ে যাবেন।
বিখ্যাত কিছু স্কলারশিপ হলো:
১/NORDPLUS
২। ERASMUS
৩। ERASMUS MUNDUS
৪। Full Bright Commission

ওয়েবসাইট এ গিয়ে আবেদন করতে পারবেন ও কি কি শর্ত রয়েছে সেসব জানতে পারবেন।

অফার লেটার :
আবেদনের পর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আপনি নির্বাচিত হলে,বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনাকে শর্তসাপেক্ষে এডমিশন লেটার পাঠাবে।এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ফর্ম দেয়া হয়। যেখানে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে হবে।এরপর, আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে টিউশন ফি জমা দিতে হবে।তবে,কোনো কারণে ভিসা না পেলে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ফেরত দিয়ে দিবে আপনাকে।

ভিসার জন্য আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র :
অফার লেটার পাবার পর ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনের মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবেন। ২/৩ মাসের মাঝেই ভিসা পেয়ে যাবেন।তাই,যথাসময়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ভিসার জন্য যেসকল কাগজপত্র জমা দিতে হবে সেগুলো হলো:
১। পাসপোর্ট ও রিসেন্ট ছবি
২। মার্কশিট ও সকল সনদ
৩। IELTS স্কোরের কপি
৪। এডমিশন /অফার লেটার
৫।আপনার সকল তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে পূরণকৃত ফর্ম।

বাসস্থান ও পার্ট টাইম জব:
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থাকার জন্য হোস্টেল সুবিধা রয়েছে।হোস্টেলে না থাকতে চাইলে ভাড়া বাসাতেও থাকতে পারবেন। সাধারণ সময়গুলোতে ডেনমার্কে হাফ টাইম জব করতে পারবেন।তবে,বিভিন্ন ভোকেশন বা ছুটির সময়গুলোতে ফুলটাইম জবের সুযোগ রয়েছে।

স্থায়ীভাবে বসবাস : ডেনমার্কে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে হলে টানা ৮ বছর থাকতে হবে।এবং ৩.৫ বছর ফুলটাইম চাকরির সাথে যুক্ত থাকা লাগবে।এসব শর্তাবলি পূরণ হলে স্থায়ী নাগরিক হতে পারবেন। এছাড়া, ডেনমার্কে Established Card নামক একধরনের কার্ডের প্রচলন রয়েছে। এই কার্ড থাকলে মাস্টার্স বা পিএইচডি শেষে জব খোঁজার জন্য ২ বছর সুযোগ পাবনে।

 

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.

error: Content is protected !!