তালিবান শাসনে কি স্থিতিশীলতা ফিরবে আফগানিস্তানে?

গত ১৫ ই আগস্ট তালিবান কাবুল অভিমুখে রওনা হওয়ার দিনই শান্তিপূর্ণভাবে বিনা বাধা ও রক্তপাতে কাবুলকে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে কাতারে অবস্থান করা তালিবান মুখপাত্র সুহাইল শাহীন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোকে তাদের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কথা জানান।এর পরের পটভূমি থেকে এখন পর্যন্ত তালিবান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পজিটিভ মনোভাব বজায় রাখতে সচেষ্ট হয়েছে।

কাবুল দখলের তৃতীয় দিনে গতকাল তালিবানের নেতৃত্ব স্থানের কিছু নেতা প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন, এ সময় পুরো আফগানিস্তানের সরকারী কর্মকর্তা ও সাধারণ
মানুষকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। এ সময় সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা সহ সকলকে দ্রুত কর্মস্থলে ফিরার আহবান জানানো হয়।
এ ছাড়া শিক্ষা ও অনান্য সকল ক্ষেত্রে নারীদের অধিকারের প্রশ্নে এক তালিবান নেতা বলেন, নারীরা যথাযথ ইসলামী মূল্যবোধ মেনে শিক্ষাক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করতে পারবে।
ওই নেতা আরও বলেন, নারী শিক্ষার বিষয়ে তাদের মনোভাব একেবারেই স্পষ্ট।

অনেক বিশ্লেষকদের ধারণা তালিবান তাদের শাসনকে পাকাপোক্ত ও বিশ্বস্বীকৃতী আদায়ের
লক্ষ্যে তাদের আদর্শিক কিছু চিন্তা চেতনাতে পরিবর্তন আনছে।এরই মধ্যে কাবুলে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের বিষয়টির মধ্যে দিয়ে তারা সেই বার্তাটি দিয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা। তবে সহজেই যে তারা বিশ্ববাসীর বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে তাও নয়
এক্ষেত্রে তাদের সামনে আরও অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে।এক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীল আফগান গঠনের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল সরকার ও জনগণের মতামতের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি ও রয়েছে।
তাছাড়া আফগান অর্থনীতি সেহেতু আমদানি ও বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর তাই তালিবানের সেখানে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই বিশ্ববাসীর সমর্থন লাগবে,যেটা সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরাতে অনেকটাই দরকার।
এক্ষেত্রে তালিবানদের অবশ্যই উদার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এছাড়া ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলো তালিবানকে হুমকি মনে করলে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন সম্ভব হবে না বলে অনেকের মত।আভ্যন্তরীণ ভিন্ন জাতি বৈচিত্র্যকে তালিবান কিভাবে দেখবে সেই বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্ন জাতির পাশাপাশি অন্যধর্ম ও মতকে তারা কিভাবে দেখবে সেই বিষয়টিও রয়েছে এই তালিকায়।

Leave a Comment

error: Content is protected !!