নরওয়েতে উচ্চশিক্ষা

নরওয়েতে উচ্চশিক্ষা

নিশীথ সূর্যের দেশ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত নরওয়ে। এর অবস্থান উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ার পশ্চিম অংশে।দেশটির রাজধানী শহর অসলো।নরডিক দেশগুলোর মাঝে এটি একটি। দেশটির প্রধান ভাষা নরওয়েজীয় এবং মুদ্রার নাম নরওয়েজীয়ান ক্রোন। অপরূপ সৌন্দর্য্য ঘেরা দেশটি বছরে প্রায় ৮ মাস বরফে ঢাকা থাকে। বিশ্বের অন্যতম শান্তিপ্রিয় দেশ এটি।যেখানে অপরাধ প্রবণতা নেই বললেই চলে।এছাড়া,রয়েছে উন্নত নাগরিক সুবিধা। এখানকার বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়তে কোনো টিউশন ফি দিতে হয় না।এছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার দিক থেকে বিশ্বের সেরা দেশগুলোর মাঝে এটি একটি। তাই উচ্চশিক্ষার জন্য দিনদিন জনপ্রিয় একটি দেশে পরিনত হচ্ছে নরওয়ে।

উচ্চশিক্ষার বিস্তারিত তথ্যাদি আলোচনা করা হলো:
উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকের কাছেই নরওয়ের অবস্থান শীর্ষে। এখনকার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বেশ উন্নত। টিউশন ও কোর্স ফি না লাগার কারণে(কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাতিত) অনেকেই এখানে পড়তে আসে। এছাড়া,পড়াশোনা শেষে আপনি স্থায়ীভাবে এখানে বসবাসের সুযোগ পাবেন। সবদিক বিবেচনায় উচ্চশিক্ষার জন্য নির্দ্বিধায় বেছে নিতে পারেন নরওয়ে কে।

নরওয়ের সেরা কিছু বিশ্ববিদ্যালয় :
এখনকার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই উন্নতমানের। নরওয়ের প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলো হলো: ১- ইউনিভার্সিটি অব অসলো।
২- ইউনিভার্সিটি অব বারগেন।
৩- নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি।
৪- ইউনিভার্সিটি অব ট্রমসো।
৫- নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স। এছাড়া, আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

নরওয়ে তে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি ও নরওয়েজিয়ান উভয় ভাষায় কোর্স অফার করে থাকে। যদি আপনার চিন্তাভাবনা থাকে যে আপনি নরওয়ে তে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান,তাহলে সে দেশের জব মার্কেট বিবেচনায় এনে কোর্স বাছাই করতে হবে। পিএইচডি, ব্যাচেলর, মাস্টার্স এর পাশাপাশি অনেকগুলো কোর্স রয়েছে।তবে ব্যাচেলরদের জন্য বাংলাদেশে নরওয়ের ভিসা দেয়া হয় না।তাই মাস্টার্স বা পিএইচডি এর জন্যই আপনাকে আবেদন করতে হবে।

যেসকল বিষয় /কোর্সে পড়তে পারবেন:
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, এডুকেশন, অডিওলজি, আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশন, লাইব্রেরি সায়েন্স, বায়োটেকনোলজি,আরবান ইকোলজিকাল প্লেনিং, অকুপেশনাল থেরাপি প্রোগ্রাম, ফুড সায়েন্স, পরিসংখ্যান, স্পেশালাইজড টিচার এডুকেশন,পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন , ফার্মাসি, ফিশারিজ,ল, ফিজিওথেরাপি, হিউম্যানিটিজ, ইঞ্জিনিয়ারিং, জার্নালিজম,ফিজিক্স, ফিজিওলজি আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন, অ্যাগ্রিকালচার সায়েন্স, মেরিটাইম সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, ডেনটিস্ট্রি,পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং, নিউরো সাইন্স, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজি, ন্যাচারাল সায়েন্স, সোশ্যাল সায়েন্স, আর্কিটেকচার, বিজনেস স্টাডিজ, ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স, সোশ্যাল ওয়ার্ক প্রোগ্রাম, নার্সিং, থিওলজি, ভেটেরিনারি মেডিসিন,মলিকিউলার সাইন্স,মিডিয়া স্টাডিজ, ম্যাথমেটিকস, বিবিএ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি,এমবিএ ইত্যাদি।

নরওয়েতে পড়াশোনার জন্য কি কি যোগ্যতা লাগে:
নরওয়েতে পড়তে একাডেমিক ও ভাষাগত দুইধরনের যোগ্যতা লাগে।একাডেমিক ফলাফল এ ৬০% নাম্বার হলেও চলে।তবে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি এর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ভিন্নতা রয়েছে। ভাষাগত যোগ্যতার জন্য ইংরেজিতে দক্ষ কিংবা নরওয়ের ভাষা জানা থাকতে হবে। যে ভাষায় কোর্স এপ্লাই করতে চান সে ভাষা যাচাইয়ের পরীক্ষা দিতে হবে। ইংরেজি ভাষা যাচায়ের সব পরীক্ষা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো গ্রহণ করে থাকে।তবে আইএলটিএস এ নূন্যতম ৬ থেকে ৬.৫ হলেই আবেদন করতে পারবেন।তবে,জেনে রাখা ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্নতা রয়েছে।

টিউশন ফি:
পূর্বেই বলা হয়েছে টিউশন ফি লাগে না। তবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হয়। বাংলাদেশি টাকায় ১৩ লক্ষ এর মতো। অফার লেটার পাবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে টাকা টা পাঠাতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েনের সাথে সাথেই সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাবেন। যদি ভিসা না পেয়ে থাকেন তবুও টাকা ফেরত পাবেন। অর্থাৎ, টাকা নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। টিউশন ফি না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় এ নামেমাত্র কিছু সেমিস্টার ফি দিতে হয়।যা বাংলাদেশী টাকায় ৫/৬ হাজার টাকার মতো।

আবেদন করতে যা যা প্রয়োজন :
১/ পাসপোর্ট।
২/ভাষাগত দক্ষতার সার্টিফিকেট।
৩/একাডেমিক সকল কাগজপত্র।(সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট)
৪/মোটিভেশনাল লেটার।
৫/রেকোমেন্ডেশনাল পেপার।
৬/ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর কাগজ পত্র। যদি অতিরিক্ত কোনো কাগজপত্র প্রয়োজন হয়েও থাকে ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে তা উল্লেখ থাকবে।

আবেদন এর প্রক্রিয়া :
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে।সেখানে বিস্তারিত সকল কিছু দেয়া থাকে। সেখান থেকেই আবেদন করতে পারবেন।আবেদন করতেও কোনো টাকা লাগে না।একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক কোর্সে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের সময়সীমা:
বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে আবেদনের সময়সীমা ভিন্ন হয়ে থাকে।তবে,আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে অক্টোবরের ১৫ তারিখ থেকে ডিসেম্বর মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় থাকে।কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে জানুয়ারি অব্দি সময় থাকে।পরের বছরের মার্চ/এপ্রিলে ফলাফল পেয়ে যাবেন। আবেদন করার পরের বছর এর মাঝামাঝি সময়ে ক্লাস শুরু হয়ে থাকে। যেহেতু,এখনকার জীবনযাত্রার মান উন্নত তাই নরওয়ে তে থাকা খাওয়ার খরচ অনেক। তাই পার্ট টাইম জব খুঁজে নিতে হয়।

পার্ট টাইম জবের সুবিধা :
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এ দেশে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারে। তবে,সামার ভ্যাকেশনে ফুলটাইম চাকরি করা যায়।যা থেকে অনায়াসে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তবে, নরওয়ের ভাষা জানা থাকলে জব পেতে সুবিধা হয়।তাই বেসিক ভাষা শিখে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।তাছাড়া, বড় শহর গুলোতে চাকরির অনেক সুযোগ রয়েছে।

স্থায়ী বসবাস:
নরওয়েতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৩ বছর বৈধভাবে নরওয়ে থাকতে হবে। পড়াশোনা শেষে পঠিত কোর্স বা সাব্জেক্টিভ ফুলটাইম চাকরি পেতে হবে। তার জন্য আপনাকে ১ বছর সময় দেয়া হবে। তারপর স্থায়ী হবার জন্য আবেদন করতে পারবেন। যদি পিএইচডি এর সুযোগ পেয়ে যান তাহলে তো কথা ই নেই!কারণ,এখানে পিএইচডি কে চাকরি হিসেবে গণ্য করা হয়।

Leave a Comment

error: Content is protected !!