বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান ও ভবনের বিশেষ তথ্য

লালবাগের কেল্লা ( Lalbagh Fort ) নিয়ে কিছু কথাঃ

লালবাগের কেল্লা মুঘল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি পুরোনো ঢাকার লালবাগে অবস্থিত একটি দূর্গ। এই কেল্লার পূর্ব নাম আওরঙ্গবাদ দূর্গ। সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা মোহম্মদ আযম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে এর নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকে। তবে তার কন্যা পরিবিবি ( প্রকৃত নাম ইরান দুখত ) এর মৃত্যুর পর ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ বন্ধ করেছিলো। পরিবিবির সমাধি কেল্লা এলাকাতে অবস্থিত। কেল্লার উত্তর- পশ্চিমাংশে বিখ্যাত শাহী মসজিদ আছে।

বড় কাটরা ( Bara Katra ) নিয়ে কিছু কথাঃ

বড় কাটরা ঢাকার চকবাজারে অবস্থিত মুঘল আমলের নিদর্শন। সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহসুজার নির্দেশে আবুল কাসেম ১৬৪১ খ্রিস্টাব্দে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এই ইমারতটি নির্মাণ করা হয়। এতে প্রথমে শাহসুজা বসবাসের কথা থাকলেও পরে এটি মুসাফির খানা হিসেবে ব্যবহার হয়।

ছোট কাটরা ( Choto Katra ) নিয়ে কিছু কথাঃ

ছোট কাটরা ঢাকার চকবাজারে অবস্থিত শায়েস্তা খাঁর আমলে তৈরি একটি ইমারত‌। তিনি এটি সরাইখানা বা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করেন। ১৬৬৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৬৭১ সালে এর নির্মাণ। কাজ শেষ হয়।

হোসেনি দালান ( Hoseni Dalan ) নিয়ে কিছু কথাঃ

হোসেনি দালান বা ইমাম বাড়া ঢাকা শহরের বকশিবাজার এলাকার একটি শিয়া উপাসনালয়। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আমলে এটি নির্মিত হয়। হিজরী ১০৫২ সনে সৈয়দ মীর মুরাদ এটি নির্মাণ করেন।

বাহাদুর শাহ পার্ক ( Bahadur Shah Park ) নিয়ে কিছু কথাঃ

বাহাদুর শাহ পার্ক পুরান ঢাকার সদরঘাটের লক্ষীবাজারে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান যেখানে বর্তমানে একটি পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। আঠার শতকের শেষের দিকে এখানে আর্মেনিয়দের একটি বিলিয়ার্ড ক্লাব ছিল। যাকে স্থানীয়রা নাম দিয়েছিল আন্টাঘর। ১৮৫৮ সালে রানী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার গ্রহণ করার পর এই ময়দানেই এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করে শোনান ঢাকা বিভাগের কমিশনার। তারপর থেকে এ স্থানের নামকরণ করা হয় ( ভিক্টোরিয়া পার্ক )। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর ইংরেজ শাসকেরা প্রহসনমূলক বিচারে ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহীকে। জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহীদের লাশ এনে এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয় । ১৯৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের শতবার্ষিকী উপলক্ষে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহদুর শাহের নাম অনুসারে পার্কের নামকরণ করা হয় ( বাহাদুর শাহ পার্ক )।

উত্তরা গণভবন ( Uttara Ganobhaban ) নিয়ে কিছু কথাঃ

দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ী বা উত্তরা গণভবন নাটোর জেলায় অবস্থিত এককালে দিঘাপাতিয়া মহারাজাদের বাসস্থান। এটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের উত্তরাঞ্চলীয় সচিবালয়। ১৭৪৩ সাল রাজা দয়ারাম রায় এটি নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালে প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে রাজপ্রাসাদটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। পরে রাজা প্রমদা নাথ রায় এটি নির্মাণ করেন। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন গভর্নর মোনায়ের খান একে গভর্নরের বাসভবন হিসেবে উদ্বোধন করেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ( উত্তরা গণভবন ) এই রাজবাড়ীর নামকরণ করেন ।

নর্থ ব্রুক হল ( Northbrook Hall ) নিয়ে কিছু কথাঃ

নর্থ ব্রুক হল পুরনো ঢাকায় অবস্থিত একটি বিখ্যাত ভবন। এটি লালকুঠি নামেও পরিচিত। ১৮৭৪ সালে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড নর্থব্রুকের সম্মানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এটি তৈরি করেন।

কার্জন হল ( Curzon Hall ) নিয়ে কিছু কথাঃ

কার্জন হল ঢাকার একটি ঐতিহাসিক ভবন। ১৯০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় ও বড়লাট লর্ড কার্জন এর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন‌। এটি নির্মিত হয় ঢাকা কলেজের পাঠাগার হিসেবে। কার্জন হল ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের জন্য এখনো ব্যবহার করা হয়।

আহসান মঞ্জিল ( Ahsan Manzil ) নিয়ে কিছু কথাঃ

আহসান মঞ্জিল পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ। এর প্রতিষ্ঠাতা নবাব আব্দুল গণি। তিনি তাঁর পুত্র খাজা আহসাউল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন। এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল। ১৮৯৭ সালে ঢাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানলে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরবর্তীকালে নবাব আহসাউল্লাহ তা পুনঃনির্মাণ করেন। ১৯০৬ সালে এখানে অনুষ্ঠিত এক সভায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালে আহসান মঞ্জিলকে ( আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে ) রূপান্তরিত করা হয়।

#বাংলাদেশ

Leave a Comment

error: Content is protected !!