বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে বাংলাদেশ

দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিং পারফরম্যান্সে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহর দল জিতল ৮৪ রানে। সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দারুণ দুটি ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে ১৮১ রানের সংগ্রহ গড়া বাংলাদেশ পাপুয়া নিউগিনিকে পরে গুটিয়ে দিয়েছে ৯৭ রানে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানে জয়ের রেকর্ড এটি। আগের সর্বোচ্চ ছিল ৭১ রানের জয়। ২০১২ সালে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭১ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

 

সাকিব ৪৬ রান করার পর বল হাতে চার ওভারে ৯ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৯ রানেই সাত উইকেট হারায় পাপুয়া নিউ গিনি। অষ্টম উইকেটে চাঁদ সোপার ও কিপলিন ডোরিগা ২৬ রানের জুটি গড়েন। ১১ রানে সোপারকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৫৪ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় পাপুয়া নিউ গিনি। শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদ দ্বিতীয় উইকেট নেন। আর কোনো ব্যাটসম্যান না থাকায় আক্ষেপে পুড়তে হয় কিপলিন ডোরিগাকে। ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

 

তাসকিনের সমান দুটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা বোলার সাইফউদ্দিন। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্ব নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। সমান পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ওমানের। এই ম্যাচ যারা জিতবে তারাই হবে বাংলাদেশের সঙ্গী। এই ম্যাচ ওমানকে সমর্থন দিবে বাংলাদেশ। কারণ এখন তাদের লক্ষ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এই ম্যাচ জিতলে নিশ্চিতভাবে গ্রুপ সেরা হবে স্কটল্যান্ড। কিন্তু ওমানকে গ্রুপের এক নম্বর হতে হলে ৭৯ রানে জিততে হবে। এর চেয়ে কম ব্যবধানে স্বাগতিকরা জয় পেলে বাংলাদেশ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন।

 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচে রেকর্ড স্কোর করল। মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরি, সাকিব আল হাসানের কার্যকরী ইনিংসের পর আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ছোট্ট ঝড়ে ৭ উইকেটে ১৮১ রান করেছে তারা। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ২ উইকেটে করা ১৮০ রান এতদিন ছিল বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। সুপার টুয়েলভে যাওয়া যতটা সহজ বাংলাদেশ মনে করেছিল, ঠিক ততটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কটল্যান্ডের কাছে হারার পর যে শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল, তা তারা দূর করেছে স্বাগতিক ওমানকে হারিয়ে। তাতে স্বস্তি ফিরেছে। 

 

ইনিংসের পঞ্চম ওভার থেকে বোলিংয়ে আসা সাকিব এক স্পেলেই পাপুয়া নিউগিনিকে অসহায় বানিয়ে ছেড়েছেন। পরপর চার ওভার বোলিং করে ৯ রান নিয়েছেন চার উইকেট। ম্যাচের ভাগ্য সেখানেই লেখা হয়ে গিয়েছিল। বাকি সময়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি পাপুয়া নিউগিনি। আটে নেমে উইকেটকিপার  কিপলিন ডরিগা ৩৪ বল খেলে ২টি চার ২টি ছয়ে ৪৬ রান করলেও দলকে একশ পর্যন্ত নিতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তিন বল আগে ৯৭ রানে গুটিয়ে গেছে পাপুয়া নিউগিনি। তাসকিন ৩.৩ ওভার বোলিং করে ১২ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়েছেন। সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ২১ রান খরচায় নিয়েছেন দুই উইকেট। শেখ মাহেদি ২০ ওভারে নিয়েছেন এক উইকেট।

 

এর আগে প্রথমে ব্যটিং করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান নাইম শেখ ফ্লিক করতে গিয়ে মিডউইকেটে ধরা পরেন। এরপর প্রতিরোধ গড়েন তিন নম্বর ব্যাটিং অর্ডারে ফেরা সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। ইনিংসের অষ্টম ওভারে ওমান অধিনায়ক আসাদ ভালাকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ব্যর্থ লিটন ৪১ বলে ৫০ রানের জুটি ভেঙেছেন। ফেরার আগে ২৩ বলে ১টি করে চার ছয়ে ২৯ রান করেন লিটন। এরপর চারে নেমে আজ আবারও ব্যর্থ মুশফিকুর রহিম। সিমন আতাইয়ের আলগা ডেলিভারি থেকে বাউন্ডারি আদায় করতে গিয়ে ফিল্ডারের হাতে বল তুলে দেন মুশি (৫)। বাংলাদেশের ইনিংসের উজ্জলতম পর্বটা এর পরে।

 

সাকিব আল হাসান আগের ম্যাচের মতোই শুরু থেকে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন। পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও শেষ দিকে পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ঝড় তোলেন। তাতেই ১৮০-এর ওপরে যেতে পেরেছে বাংলাদেশ। উইকেট ধরে রেখে রানের চাকা সচল রাখা সাকিবের ইনিংসটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ৩৭ বল খেলে ৪৬ করে ফিরেছেন আসাদ ভালাকে হাঁকাতে গিয়ে। সাকিবের ইনিংসে চারের মার নেই, ছক্কা ৬টি। মাহমুদউল্লাহ পাঁচে নেমে মাত্র ২৮ বলে করেন ৫০ রান। তার ইনিংসে চার ৩টি, ছক্কাও ৩টি। ইনিংস বড় করতে না পারলেও আফিফ হোসেন ধ্রুবর ১৪ বলে ৩টি চারে ২১ রানের ইনিংসটা ছিল কার্যকরী। শেষ দিকে পেসার সাইফ ৬ বলে একটি চার দুটি ছয়ে ১৯ রান করেন। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তোলে বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

error: Content is protected !!