ভারতে উচ্চশিক্ষা

ভারতে উচ্চশিক্ষা

ভারত দক্ষিণ এশিয়ার এবং বাংলাদেশের প্বার্শবর্তী বন্ধু রাষ্ট্র। দেশটি ২৮টি রাজ্য নিয়ে গঠিত।নয়াদিল্লি ভারতের রাজধানী ও মুম্বাই বৃহত্তম শহর। ভারতে প্রায় ২২ টি ভাষাভাষীর মানুষ রয়েছে।কেন্দ্রীয় স্তরের ভাষা হিন্দি। অপরূপ সৌন্দর্য্যে ও প্রাকৃতিক বৈচিত্রে ভরপুর দেশটি।

সেই সাথে দেশটি এগিয়ে আছে শিল্প, সংসস্কৃতি, অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তির দিক দিয়ে। বাংলাদেশের পাশের দেশ ও উন্নতমানের পড়াশোনা এবং স্কলারশিপ এর সুযোগ থাকার দরুন অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভকের পছন্দের দেশ ভারত। এখনে স্কুল,কলেজ এ পড়াশোনার সুযোগ এর পাশাপাশি ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি এর জন্য রয়েছে অনেক সুবিধা।

মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিজের মাঝে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পুষে রাখে। নিজেকে বিশ্বের দরবারে হাজির করতে চায়। বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার খরচ চালিয়ে নিতে অনেক অভিভাবক হিমশিম খায়।সেদিক বিবেচনায় ভারতে কম খরচে এবং স্কলারশিপ এর সাহায্য নিয়ে উন্নত মানের শিক্ষায় নিজেকে শাণিত করার মাধ্যমে গ্রেজুয়েশন,পোস্ট গ্রেজুয়েশন শেষ করে আসতে পারবেন। সেই সাথে আরো রয়েছে অসংখ্য সুযোগ -সুবিধা।

অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের দূরে পড়াতে আগ্রহী থাকেন না। তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে ভারত।কারণ,বিশ্বের অনেক দেশেই ভিসা জটিলতা থাকার কারণে চাইলেই আপনি দেশে আসতে পারবেন না।কিন্তু, ভারত কাছাকাছি হওয়াতে ছুটির দিনগুলোতে দেশে এসে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে পেতে পারবেন সহজেই।

ভারতে কেনো উচ্চশিক্ষা নিতে আসবেন?
★ভারতে রয়েছে বেশ উন্নত মানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় । যেগুলোর অবস্থান বিশ্ব রেংক বিবেচনায় বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক উপরে। এখনাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিআর,এসআইআই দিচ্ছে ৫০%/৭০% থেকে ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ এর সুযোগ।

★বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাষাগত কোনো দক্ষতা লাগে না। এমনকি আইএলটিএস এর প্রয়োজন পড়ে না।যদি আপনার আইএলটিএস এর সার্টিফিকেট থাকে তাহলে আপনি অন্যদের থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকবেন।কারণ,এখানকার সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা হয়।

★আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ। ভিসা কনফার্ম হবার চান্স ৯৯%।

★ বাংলাদেশের পাশের দেশ হওয়ার এডজাস্ট করতে সহজ হয়।থাকা,খাওয়া ও জীবনযাত্রা বাংলাদেশের মতোই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হোস্টেল সুবিধার পাশাপাশি আলাদা আবাসনের সুযোগ রয়েছে।

★ সেশনজট নেই এবং পড়াশোনা শেষে জব এর সুযোগ রয়েছে।বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে নিয়োগ দিয়ে থাকে। তবে,ভারতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের চাকরির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ভারতের টপ রেঙ্ক কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হলো:
ভারতের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় টপ রেঙ্কিং এ থাকে। তবে সেরা ২০০ টি বিশ্ববিদ্যালয় এর মাঝে ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় গত কয়েকবছর ধরে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।সেগুলো হলো:
★আইআইটি বোম্বে।
★আইআইটি দিল্লী।
★বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস।

এছাড়া আরো রয়েছে:
১/ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি রোপার।
২/ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি ইন্দোর।
৩/বানারস হিন্দো ইউনিভার্সিটি।
৪/ইন্সটিটিউট অফ কেমিক্যাল টেকনোলজি
৫/ ইউনিভার্সিটি অব দিল্লী।
৬/ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন এন্ড রিসার্চ, পুনে।
৭/ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন এন্ড রিসার্চ, কলকাতা।
৮/ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি গান্ধীনগর।
৯/ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি হায়দ্রাবাদ।
১০/ ইউনিভার্সিটি অব কলকাতা।

ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোর্স/বিষয়সমূহ:

তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাহিদাসম্পন্ন প্রায় সকল বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:মেডিসিন, ফার্মেসি,ডেন্টাল,নার্সিং,ফিজিওথেরাপি, বিজনেস,একাউন্ট,ট্যুরিজম এন্ড হোটেল মেনেজমেন্ট,কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং,সিভিল,ম্যাকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এমবিএ,আইটি,ইসিই,আয়ুর্বেদ ইত্যাদি।

টিউশন ফি এবং স্কলারশিপ :
ভারতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুই ধরনের স্কলারশিপ চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্কলারশিপ যেখানে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টিউশন ফি ৭০% পর্যন্ত ছাড় দিয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত,ভারত সরকার আইসিসিআর, স্টাডি ইন ইন্ডিয়া,আইআইটিবি,আদিত্য এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট বৃত্তি প্রদান করে থাকে।

এসকল বৃত্তির সুযোগ- সুবিধা :
ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি লাগবে না।সেই সাথে থাকা, খাওয়ার খরচ এমনকি দেশে যাতায়াত এর খরচ পর্যন্ত পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।এবং পূর্বের পরীক্ষাসমূহে নূন্যতম ৬০% নাম্বার থাকা লাগবে। এছাড়া, এসকল বৃত্তির ওয়েবসাইট এ সার্চ করলে যাবতীয় সকল তথ্য পেয়ে যাবেন।

আইসিসিয়ার বৃত্তি:
প্রতি বছর বাংলাদেশী ২০০(১০০টি ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য বাকি ১০০ টি অন্যান্যদের জন্য) জন শিক্ষার্থীদের ভারত ফুল ফ্রি বৃত্তিটি দিয়ে থাকে।ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি এর জন্য এই বৃত্তিটি দেয়া হয়ে থাকে। প্রতি মাসে প্রায় (১৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার ভারতীয় রূপি প্রদান করে থাকে। সেই সাথে যাওয়া আসার ফ্লাইট ভাড়াও প্রদান করে। তবে,মেডিকেল সাইন্স এর জন্য এই বৃত্তি প্রযোজ্য নয়।

ভারতে পড়াশোনার খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। জীবনযাপন ও জিনিসপত্রের দাম ও সস্তা। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর খরচ বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এর তুলনায় কয়েক গুণ কম। তাই কম খরচে পড়তে চাইলে ভারতে চেষ্টা করতে পারেন।

Leave a Comment

error: Content is protected !!