স্বাধীনতা স্মরণে তৈরী ভাস্কর্য সমূহ

শহীদরা তাদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদেরকে এই স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনে রয়েছে কতো ইতিহাস। তার কিছু অভিব্যক্তি হলো এই ভাস্কর্য সমূহ।

জাগ্ৰত চৌরঙ্গীঃ


জাগ্ৰত চৌরঙ্গী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য। এটি জয়দেবপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত। এর স্থপতি হলেন শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক।


অপরাজেয় বাংলা ( Oprajeyo Bangla ) ভাস্কর্য


অপরাজেয় বাংলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন কলাভবনের সামনে অবস্থিত একটি ভাস্কর্য। এটি নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলার নারী-পুরুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও বিজয়ের প্রতীক এই ভাস্কর্য। ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। ৬ ফুট বেদির এ ভাস্কর্যটির উচ্চতা হলো ১২ ফুট।


সাবাস বাংলাদেশ ( Shabash Bangladesh ) ভাস্কর্য


সাবাস বাংলাদেশ বাংলাদেশের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ভাস্কর্যটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত। এর স্থপতি শিল্পী নিতুন কুন্ডু। ১৯৯২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন।


বিজয় কেতন ( Bijoy Keton )- ভাস্কর্য / জাদুঘর


ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম ( বিজয় কেতন )। এর মূল ফটকে অবস্থিত ভাস্কর্যটির নামও ( বিজয় কেতন )। এই ভাস্কর্যে রয়েছে সাতজন মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি ; এদের একজন হলেন বাংলাদেশের পতাকাবাহী নারী।


স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ( Swoparjito Swadhinota ) ভাস্কর্য


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সির সড়কদ্বীপে রয়েছে ( স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটি। ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ এ ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়। এ ভাস্কর্যের নির্মাতা চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শামীম শিকদার।


স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের সড়ক দ্বীপে ( স্বাধীনতা সংগ্রাম ) ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ভাস্কর্য। ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন। এ ভাস্কর্যের নির্মাতা শামীম শিকদার‌। বাঙালির ইতিহাসে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত সমস্ত বীরত্বকে ধারণ করে তৈরি করা হয়েছে এ ভাস্কর্য।


মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ( Mujib Nagar Memorial ) ভাস্কর্য


১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে প্রবাসী সরকার শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এই ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ১৯৮৭ সালের ১৭ এপ্রিল এখানে উদ্বোধন করা হয়েছে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধটির ডিজাইনের নকশা করেছিলেন স্থপতি তানভীর করিম।


রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ভাস্কর্য


ঢাকা শহরের পশ্চিমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশেই এই স্মৃতিসৌধটি অবস্থিত। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেশের প্রখ্যাত সন্তানদের হত্যা করে এই স্থানে পরিত্যক্ত ইটের ভাটার পশ্চাতে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডকে স্মরনীয় করে রাখার জন্য ইটের ভাটার আদলে এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। এর স্থপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও জামি আল শাফি।


শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধ ( Martyred Intellectuals Memorial ) ভাস্কর্য


শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ঢাকার মীরপুরে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী নির্বিচারে এদেশের সূর্যসন্তানদের হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী নির্বিচারে এদেশের সূর্যসন্তানদের হত্যা করে। ১৯৭২ সালের ২২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ সৌধটি উদ্বোধন করেছিলেন। এর স্থপতির নাম মোস্তফা হারুন কুদ্দুস হিলি।


শিখা অনির্বান ভাস্কর্য


শিখা অনির্বান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সৌনিকদের স্মৃতিকে জাতির জীবনে চির উজ্জ্বল করে রাখার জন্য এই স্মৃতিস্তম্ভে সর্বক্ষণিকভাবে শিখা প্রজ্জ্বলন করে রাখা হয়। ঢাকা সেনানিবাসে এলাকায় এটি অবস্থিত। এর স্থাপত্য পরিকল্পনা করেছে ঢাকা ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট সেন্টার।


স্মৃতি অম্লান ভাস্কর্য


রাজশাহী শহরের ভদ্রা এলাকায় অবস্থিত স্মৃতি অম্লান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ। ১৯৯১ সালের ২৬ মার্চ এর শুভ উদ্ধোধন করা হয়েছিল। রাজিউদ্দিন আহমাদ এর স্থপতি।


( বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভবন ) ভাস্কর্য


( বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভবন ) কলকাতায় অবস্থিত। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজড়িত কলকাতার ইসলামিয় কলেজের বেঁকার হোস্টেলের নবনির্মিত বর্ধিত ভবনের নাম রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভবন ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মান বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভবনের নামফলক উন্মোচন করেন। পাশাপাশি বেঁকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষের সামনে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষমূর্তি এবং ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সংগ্ৰহশালার উদ্বোধন করা হয়।

স্বাধীনতা আমাদের অনেক বড় অর্জন। অনেক প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই মহান শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে আমাদের এই ভাস্কর্য সমূহ তৈরী করা হয়েছে। যাতে আমাদের আগামী প্রজন্ম আমাদের শহীদের ত্যাগ বুঝতে পারে এবং অনুভব করতে পারে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!