কেন পড়বো BBA?


কেন পড়বো BBA ?

বর্তমানে এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপন কৌশল, অন্যকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা, নেটওয়ার্কিং ও পেশাদারিত্ব অন্য সবার চেয়ে নিজের সাথে পার্থক্য গড়ে দেয়। আপনার কমিউনিকেশন স্কিল বা এই জাতীয় সফট স্কিলগুলো যত ভালো হবে কর্পোরেট লাইফে আপনার উন্নতি ঠিক তত বেশি হবে। যে একাডেমিক বিষয় আপনাকে এই জাতীয় সফট স্কিলগুলো অর্জন করতে সর্বাধিক সাহায্য করবে সেটি হচ্ছে BBA বা Bachelor of Business Administration বা বাংলায় যা আমাদের কাছে ব্যবসায় প্রশাসন নামে পরিচিত। শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সময়ের সবচেয়ে উপযোগী এবং চাহিদাসম্পন্ন একটি সাবজেক্ট হচ্ছে বিবিএ। আমাদের দেশের চাকরির বাজারে এখন ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিবিএ) ডিগ্রিধারীদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বর্তমান যুগের সবচেয়ে স্মার্ট পেশা ও কর্পোরেট সেক্টরগুলোতে রয়েছে বিবিএ ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার। 

 

কমার্স থেকে পড়াশোনা করার পর বিবিএ করাটা আপনার জন্য কর্পোরেট লাইফে বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। কেননা ব্যবসায় শিক্ষার আরও অনেক পেশাগত কোর্স যেমন- এসিসিএ, সিমা ইত্যাদি বিদ্যমান থাকার পরও বর্তমানে বিবিএ সাবজেক্টটির গুরুত্বই সর্বাধিক। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে অন্যান্য কোর্সের ক্ষেত্রে দেখা যায় নির্দিষ্ট কোনো এক বা দুইটি বিষয় নিয়েই পুরো কোর্স আলোচনা করা হচ্ছে কিন্তু বিবিএ তে শুধু একটি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ফোকাস করা হয় না বরং এ বিষয়টি অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় বিভিন্ন শাখার একাধিক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে ও নিজেদের স্কিল ডেভেলপ করতে পারে। আর এজন্যই শিক্ষার্থীদের কাছে বিবিএ সাবজেক্টটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

 

BBA সাবজেক্টটির কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের জন্য একটু ভিন্নভাবে ডিজাইন করা হয় যেহেতু কর্পোরেট লাইফে একজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে হয়। বিবিএ পড়ে একজন শিক্ষার্থী যেমন ব্যবসায় শিক্ষা সম্পর্কে জানতে পারছে ঠিক তেমনি বিজ্ঞান, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে অল্পবিস্তর জ্ঞান লাভ করতে পারে। এজন্য বিবিএ তে কিছু বিষয়কে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে যেগুলোকে আমরা মেজর সাবজেক্ট বলে জানি। 

 

বিবিএ তে ৬টি মেজর বিষয় রয়েছে যাতে করে একজন শিক্ষার্থী চাকরি ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের পরিবেশ পরিস্থিতিতে নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানিয়ে নিতে পারে। 

 

১. মার্কেটিংঃ মার্কেটিং এর পুরো বিষয়টিই আসে ক্রিয়েটিভিটি থেকে। যার ক্রিয়েটিভিটি যত বেশি মার্কেটিংয়ে তার সফলতাও তত বেশি। আপনার সৃজনশীল চিন্তা দিয়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছানো, ক্রেতাকে পণ্য সম্পর্কে প্রভাবিত করা, ইমোশনাল ভাবে ক্রেতাকে পণ্যটি কিনতে প্রভাবিত করা এমন সব বিষয় নিয়েই মার্কেটিং সেক্টরে আলোচনা করা হয়। মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি যদি আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা থাকে তাহলে তো আর কথায় নেই। 

২. হিসাব বিজ্ঞানঃ ম্যাথে ভালো না থাকলে একাউন্টিং নিয়ে আগানোর চিন্তা না করাই ভালো। কেননা এখানে কোনো ক্রিয়েটিভিটির কাজ নেই। যা আছে সবই থিওরিটিক্যাল কাজ আর সমস্যা সমাধান বা হিসাব নিকাশের কাজ।

৩. ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংঃ হিসাববিজ্ঞানের মতোই ফিন্যান্স এবং ব্যাংকিং এও সব ম্যাথের কাজ। ম্যাথে দুর্বল হলে এই বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকা ভালো। ফিন্যান্সে গড় মূলধন ব্যয়,  সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয়, অগ্রাধিকার শেয়ার মূলধন ব্যয়, ঋণ মূলধন ব্যয়, গড় মূলধন ব্যয় এমন নানা সব বিষয় নির্ণয় করতে হয়। ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সংজ্ঞা থেকে শুরু করে ব্যাংকের আমানত, কার্যাবলি, গ্রাহকের মধ্যে সম্পর্ক, দায়িত্ব ও কর্তব্য, ঋণদান এমন নানা বিষয় নিয়ে পড়ানো হয়।

৪.ব্যবস্থাপনাঃ ব্যবস্থাপনা বলতে মূলত আমরা লিডারশীপ যাকে বলি। নেতৃত্বদানের ক্ষমতাও এখন অন্যতম বড় একটি স্কিল।যদি অন্যের লিডারশীপ গ্রহণ করার মানসিকতা কম থাকে, নিজে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে এই সেক্টর বেস্ট। 

৫. হিউম্যান রিসোর্স ব্যবস্থাপনাঃ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেণ্ট বা মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। বলতে গেলে একজন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার কোম্পানির পুরো দায়িত্বই পালন করে থাকে। কোম্পানির যত সেক্টর বা দিক আছে সব কিছু দেখাশোনা করাই হিউম্যান রিসোর্সের কাজ।

৬. ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিসটেমঃ এটি মূলত নেটওয়ার্কিং এর মতোই একটি বিষয়। পুরো কোম্পানির মধ্যে সব ধরনের তথ্য আদান প্রদান সংশ্লিষ্ট কাজগুলো এই সেক্টরে শেখানো হয়। 

 

বাংলাদেশে বিবিএ এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি পাবলিক ভার্সিটিতে বিবিএ পড়ানো হয় যেমন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস ইত্যাদি। আর দেশের বাইরে পড়াশোনার জন্য বেশ অনেকগুলোই স্কলারশিপ এর সুযোগ রয়েছে। 

 

চাকরির বাজারে বিবিএ শিক্ষার্থীদের চাহিদা ব্যাপক। ব্যাংক, বিমা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ, ট্যাক্স, আর্থিক প্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিভাগগুলোতে বিবিএ শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ রয়েছে। অনেকে আবার বিবিএ শেষে উদ্যোক্তা হয়ে থাকে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আকর্ষণীয় বেতন, উন্নত সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটিয়ে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদগুলোতে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়।

Leave a Comment

error: Content is protected !!