Economics (অর্থনীতি) কেন পড়বো ??


Economics (অর্থনীতি) কেন পড়বো ??

Economics

Economics বা অর্থনীতি নামের মধ্যেই এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে মোটামুটি সব ধারণা চলে আসে। একুশ শতকের সেরা তিনটি বিষয়ের মধ্যে অর্থনীতি একটি। বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নতির পিছনে অর্থনীতিবিদদের বিভিন্ন গবেষণাই মূল ভিত্তি। অর্থনীতিকে তাই রয়্যাল সাবজেক্টও বলা হয়। সময়ের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে এর চাহিদা কেবল বেড়েই চলেছে। শুধু যে বাংলাদেশেই এর চাহিদা বাড়ছে তা কিন্তু নয়, বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নতির পিছনে এই বিষয়টির গুরুত্বও অপরিসীম। এজন্যই বলা হয়ে থাকে অর্থনীতি ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন। 

 

মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি যেমন মানুষের চাহিদা আছে তেমনি অর্থনীতিকেও একটি রাষ্ট্রের উন্নতিতে মৌলিক বিষয় হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। মৌলিক বিষয় ছাড়া যেমন আমাদের একটি দিন কল্পনা করা যায় না তেমনি অর্থনীতি ছাড়াও কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে না। বাড়ির পাশে ছোট বাজার থেকে শুরু করে বিলিয়ন ডলারের স্টক মার্কেট কিংবা জাতীয় বাজেট থেকে শুরু করে ঘরের আয় ব্যয়ের হিসাব নিকাশ সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতি। প্রতিনিয়ত আমরা অসংখ্য অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিই, দৈনন্দিন কাজে অর্থনীতির ব্যবহার করে থাকি, তবে সেগুলো যে অর্থনীতির পাঠ্য সে সম্পর্কেই কেবল আমরা ধারণা রাখি না। অর্থনীতির বিষয়বস্তু শুধু যে হিসাব নিকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তা কিন্তু না, এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। 

 

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে যেমন ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়, মেডিকেলে পড়ে যেমন ডাক্তার হওয়া যায়, জার্নালিজম পড়ে যেমন সাংবাদিক হওয়া যায় বা আইন পড়ে আইনজীবী হওয়া যায় তেমনি অর্থনীতি পড়ে যে কেউ অর্থনীতিবিদ হয়ে যাবে ব্যাপারটা এমন না। অর্থনীতির পরিধি বা এর বিষয়বস্তুর বিস্তৃতি এতই যে আপনি অর্থনীতি পড়ে যেকোনো পর্যায়েই যেতে পারবেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে গবেষক কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির ডিরেক্টর কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও অর্থনীতি পড়ে হওয়া যায়। তাছাড়া সমাজকর্মী থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও হওয়ার সুযোগ থাকছে। যেকোনো পর্যায়ে যাওয়ার এই বহুমুখী সুযোগ অর্থনীতির শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকছে। 

 

অর্থনীতির চাহিদা যেমন ব্যাপক তেমনি এতে পরিশ্রমেরও বিষয় আছে। অর্থনীতি বলতেই আমাদের মাথায় আসে এখানে সব অঙ্কের খেলা। সুতরাং যদি গণিতে দুর্বল থাকেন বা অঙ্ক দেখলেই আতঙ্ক কাজ করে তাহলে অর্থনীতি আপনার জন্য না। 

যৌক্তিক চিন্তা করার ক্ষমতা, গাণিতিক দক্ষতা, সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, গবেষণার দক্ষতা কিংবা অর্থনৈতিক জ্ঞান এই বীষোয়োগূলো যদি আপনার মধ্যে খুঁজে পান তবেই অর্থনীতিতে আপনাকে স্বাগতম। নয়তো ঝুঁকের মাথায় বসে অর্থনীতি নেওয়ার কোনো দরকারই নেই, উলটো সারাজীবন এর জন্য আফসোস করে যেতে হবে। 

 

অর্থনীতি হলো ভিত্তি; আর বিপণন, ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সংস্থানের মতো বিষয়গুলো হলো এর শাখা-প্রশাখা। বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিগুলো বাদে বেশিরভাগ পাবলিক কিংবা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগ হিসেবে অর্থনীতি আছে। এ বিভাগে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স শেষ করে ১ বছরের জন্য মাস্টার্স করা যায়। অর্থনীতি যেহেতু অনেকগুলো সেক্টরকে কভার করছে সেহেতু এর একাডেমিক কারিকুলামও অন্যান্যদের থেকে একটু ভিন্ন হবে। অনার্সের একাডেমিক কোর্স হিসেবে মাইক্রো ইকোনোমিকস, ম্যাক্রো ইকোনোমিকস, গণিত, পরিসংখ্যান, ইকোনোমেট্রিকস, হেলথ ইকোনোমিকস, পাবলিক ইকোনোমিকস, ফিন্যান্স, একাউন্টিং, দর্শন, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার এনালাইসিস, ডেভেলপমেন্ট ইকোনোমিকস, রিসার্চ মেথডোলজি, এনভায়রনমেন্টাল ইকোনোমিকস, বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর উপর আলাদা কোর্স চালু আছে। আর মাস্টার্সের জন্য মাইক্রো ও ম্যাক্রো ইকোনোমিকস, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড, বাংলাদেশের অর্থনীতিঃ সেক্টোরাল স্টাডিজ, ইকোনোমিক মডেলিং, প্যানেল ডাটা অ্যান্ড নন লিনিয়ার ইকোনোমেট্রিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনোমিকস এর উপর আলাদা আলাদা কোর্স করা যায়। 

 

অর্থনীতি পড়ে কাজ করার বহুমুখী সুযোগ রয়েছে। অর্থনীতি পড়ে যে আপনাকে অর্থনীতিবিদ হতে হবে ব্যাপারটা এমন না।

কেউ যদি শিক্ষকতা করতে চান, তাহলে পিএইচডি করে শিক্ষকতাও করতে পারেন আবার শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণাও চালিয়ে যেতে পারেন। অর্থনীতি নিয়ে পড়ার পর বেশি সম্ভাবনা থাকে গবেষণা সেক্টরগুলোতে। অর্থনীতি যেহেতু অনেকটাই রিসার্চের উপর নির্ভরশীল তাই বিভিন্ন রিসার্চ অর্গানাইজেশনে আপনি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সিপিডি, বিআইডিএস, সানেম, পলিসি রিসার্চ সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল ফুড রিসার্চ সেন্টার ইত্যাদি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী তাদের ক্যারিয়ার শুরু করছে। 

এছাড়া আপনি ব্যাংকের বিভিন্ন পোস্টে নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবেও ইকোনমিকস এর শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গড়তে পারবে।

তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংক কিংবা প্রতিষ্ঠানে ফিন্যান্স এডভাইজার হিসাবে কাজের সুযোগ বা কন্সাল্টেন্সি ফার্ম, এনজিও, কলেজের প্রভাষক হিসেবেও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকছে। আর সেইসাথে একটি স্ট্যান্ডার্ড মানের স্যালারিও আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। অর্থনীতি শেষে ভালো কোনো পোস্টে জয়েন করলে শুরুতেই ৩০-৩৫ হাজার টাকার কাছাকাছি বেতন পাওয়া যায়। আর একেক জনের কাজ ও পদের ধরন অনুযায়ী তা নির্ভর করছে। কোনো কোনো ব্যাংক আর প্রতিষ্ঠানে জয়েনিং এই ৬০-৭০ হাজার টাকার বেশি স্যালারি পাওয়া যায়। 

 

Leave a Comment

error: Content is protected !!