যেভাবে IELTS এর জন্য প্রস্তুতি নিবেন

IELTS

যেভাবে IELTS এর জন্য প্রস্তুতি নিবেন

যাদের ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ ইংরেজি নয়, অর্থাৎ যারা ইংরেজি প্রধান দেশের নাগরিক নয় তাদের জন্য বিদেশে পড়াশোনা কিংবা স্থায়ী বসবাসের জন্য ইংরেজিতে দক্ষতা পরিমাপের জন্য একটি টেস্ট দিতে হয়। ইংরেজিতে দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, যেমন- IELTS, TOEFL। তবে এ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে সর্বাধিক প্রচলিত পদ্ধতি হলো IELTS বা International English Language Testing System।

IELTS কে মূলত দুইভাগে ভাগ করা যায়। আপনি যদি একাডেমিক পড়াশোনার জন্য বিদেশের কোনো কলেজ কিংবা ভার্সিটিতে এপ্লাই করেন তাহলে আপনাকে একাডেমিক IELTS এক্সাম দিয়ে সেখানে যেতে হবে। আর আপনি যদি ইমিগ্রেশন বা কোনো চাকরির জন্য বিদেশ যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে জেনারেল IELTS- এ অংশ নিতে হবে। দুই ধরনের IELTS এই চারটি করে অংশ আছে- লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং। এই চারটি ধাপ মিলিয়েই মূলত ইংরেজিতে আপনার দক্ষতা যাচাই করা হবে। এখানে কোনো পাশ ফেইল নেই। IELTS এর স্কোর হলো ব্যান্ড, সর্বোচ্চ ব্যান্ড হলো 9। আপনার চারটি ধাপের পরীক্ষা দেওয়ার পর সবগুলোর সামগ্রিক গড় স্কোরই হবে আপনার ব্যান্ড।

চারটি ধাপের মধ্যে প্রতিটি ধাপেই আপনাকে কয়েক ভাগে প্রশ্ন করা হবে। প্রতিটি প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে এক্সট্রা কিছু সময় দেওয়া হবে। IELTS এ লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় লিসেনিং দিয়ে। লিসেনিংয়ে চারটি সেকশন থাকে। প্রতিটি সেকশনে দশটি করে প্রশ্ন থাকে। প্রশ্নগুলো মূলত শূন্যস্থান পূরুণ, এমসিকিউ, টেবিল মেলানো ও একটি ম্যাপ রিডিং দিয়ে সাজানো হয়। শূন্যস্থানের ক্ষেত্রে বানানের দিকে নজর রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল বানানে কোনো মার্ক আসবে না। লিসেনিং ধাপটি হয় মূলত চল্লিশ মিনিটের জন্য। প্রথম ত্রিশ মিনিটে আপনার সামনে কম্পিউটারে একটি ভয়েস রেকর্ড চালিয়ে দেওয়া হবে, সেগুলো শুনতে শুনতে প্রশ্নপত্রে উত্তর লিখবেন। বাকি দশ মিনিট সেই উত্তরগুলো মূল উত্তরপত্রে লেখার জন্য বরাদ্দ দেওয়া থাকে।

লিসেনিং এর পরই রিডিং টেস্ট শুরু হয়। রিডিং টেস্টে ভালো করার জন্য অবশ্যই আগে থেকে রিডিং পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে। রিডিংয়ে তিনটি মাঝারি আকারের প্যাসেজ থেকে প্রশ্ন করা হয় যেগুলো মূলত ৭০০-৮০০ শব্দের মধ্যে হয়ে থাকে। তিনটি প্যাসেজের জন্য এক ঘন্টা সময় বরাদ্দ থাকে, অর্থাৎ প্রতিটি প্যাসেজের জন্য ২০ মিনিট করে সময় পাচ্ছেন। কিন্তু দেখা যায় অনেকের রিডিং স্পিড কম থাকার কারণে কিংবা ইংরেজি পড়তে বেশি সময় লাগার কারণে উত্তর করে আসতে পারে না, যার কারণে নাম্বার অনেকটাই কমে যায়। রিডিংয়ে প্রতিটি প্যাসেজের জন্য হেডিং দিতে হয় বা যে প্যারাগুলো থাকে সেগুলোর জন্য সামারি লিখতে হয়। রিডিং পড়ে প্যাসেজ না বুঝলে এগুলোতে উত্তর করা বেশ কঠিন হয়ে যায়।

রিডিংয়ের পর আসে রাইটিং টেস্ট। রাইটিং টেস্টে আপনার চারটি বিষয়ের উপর মার্কিং করা হয়ে থাকে। আমরা নরমাল পরীক্ষার খাতায় যেভাবে কিছু লিখে আসি এভাবে যদি IELTS এও লিখে আসেন তাহলে নাম্বার প্রথমেই কাটা। মনে রাখবেন এখানে ইংরেজিতে দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে তাই যথাসম্ভব ফরমাল টোন বজায় রেখে আমাদের কোনো কিছু সম্পর্কে লিখতে হবে। রাইটিংয়ে মার্ক কমে যাওয়ার একটি কারণ হচ্ছে আপনাকে যেভাবে লিখতে বলা হয়েছে আপনি সেভাবে লিখছেন কি না! আপনাকে যদি কোনো বিষয়ের পজিটিভ আর নেগেটিভ উভয় দিক সম্পর্কে লিখতে বলা হয় তাহলে দুই দিকই আলোচনা করতে হবে। আপনি যদি শুধু পজিটিভ দিক সম্পর্কে লিখে চলে আসেন তাহলে মার্ক কমে আসবে। এরপরে ভোকাবুলারির দিকে নজর রাখতে হবে। আপনি একই শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু কোনো বাক্যে একই শব্দ দুইবার ব্যবহার করলে মার্কিং কমে যায়। সাধারণ শব্দই ব্যবহার করুন কিন্তু প্রতিশব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন তাহলে পরীক্ষক বুঝতে পারবে আপনার প্রতিশব্দের উপরও দক্ষতা আছে। তৃতীয়ত প্রতিটি প্যারা প্রতিটির সাথে সম্পর্কিত কি না তা দেখুন, এক প্যারার সাথে অন্য প্যারার সম্পর্ক না থাকলে মার্কিং কমে যায়। শেষ হচ্ছে গ্রামার, যতবেশি পারুন Tense, Complex Sentence কিংবা Active Passive Voice এর ব্যবহার করুন। এগুলো আপনার গ্রামারের উপর দক্ষতা নির্দেশ করবে।

সর্বশেষ হচ্ছে স্পিকিং টেস্ট। আর স্পিকিং টেস্টই আমাদের সবার জন্য একটু জটিল মনে হয়। স্পিকিংয়ে চারটি বিষয়ের উপর মার্ক করা হয়। ফ্লুয়েন্সি, কোহেরেন্সি, গ্রামার ও ভোকাবুলারি। স্পিকিং টেস্ট হয় তিন ধাপে। প্রথম ধাপে আপনার সাথে পরীক্ষক সাধারণ কিছু কথাবার্তা বলবে যেগুলো আমরা সচরাচর বলে থাকি। দ্বিতীয় ধাপে আপনাকে একটি কার্ড দেওয়া হবে সেখানে একটি বিষয় দেওয়া থাকবে এবং সেই বিষয়ের উপর আপনাকে বক্তৃতা দিতে হবে। তৃতীয় ধাপে আপনাকে দ্বিতীয় ধাপে যে বিষয় দেওয়া হয়েছে সেই বিষয় সম্পর্কেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কিছু প্রশ্ন করা হবে। আর এভাবে চারটি প্রসেস শেষ করার পর প্রতি ধাপে আপনার স্কোর মিলিয়ে সামগ্রিক গড় স্কোরই আপনার ব্যান্ড নির্ধারিত হবে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!