(2) BBA কেনো পড়বো?

(2) BBA কেনো পড়বো?

Bachelor of Business Administration ( BBA)

আমরা অনেকেই তো BBA(বিবিএ) Bachelor Of Businesses administration নিয়ে পড়াশুনা করি। BBA এর বাংলা অর্থ হচ্ছে ব্যাবসা প্রশাসনে স্নাতক। কিন্তু আমরা এই বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে কি করতে পারি। আমরা যারা বিবিএ পড়াশোনা করি তারা জানি এটি চার বছর মেয়াদী কোর্স। বিবিএতে প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের (120-140) ক্রেডিট (সময়) শেষ করলে আপনি একজন বিজনেস গ্রাজুয়েট হিসাবে গন্য হবেন।

একজন Business Graduate হিসাবে আপনি কি কি ক্ষেত্রে কাজ করতে পারবেন? এবং এই বিভাগের উপর ভিত্তি করে কি কি বিষয়ে আপনি বিবিএ করতে পারবেন?

Accounting( হিসাব বিজ্ঞান),Management (ব্যবস্থাপনা),Marketing ( বিপণণ),Human Resources management (মানব সম্পদ পরামর্শকারী), Hospitality and Tourism management (আতিথিয়তা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা) Management Information system( ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা), Cost Management (দাম ব্যবস্থাপনা), Economics( অর্থনীতি)।এই বিষয় গুলো ছাড়া আরো কিছু ঐচ্ছিক বিষয় রয়েছে।

এবার আসা যাক বিবিএ পড়ে আপনি যেসব প্রতিষ্ঠানে জব করতে পারবেন–

যেমনঃ মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশন ,ব্যাংক,বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, এছাড়া ,বিসিএস,বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে,সরকারী-বেসকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা,ফ্রিল্যান্সিং ,চার্টার একাউন্টিং ,একজন উদ্যোক্তা হিসাবে কাজ করতে পারেন।বিবিএ তে আপনি ব্যবসা বিষয়ে পড়াশুনা ছাড়াও বিজ্ঞান,ইতিহাস,গনিত ও পরিসংখ্যান বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারনে।বিবিএ পড়ে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।ব্যাবসা প্রশাসনের বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে জানতে পারবেন।সেই বিষয় গুলো একজন উদ্যোক্তা হিসাবে নিজের ব্যাবসা আরো কিভাবে আকর্ষণীয় করতে পারেন।

বিবিএ পড়াকালীন সময়ে আপনি বিভিন্ন ধরনের খন্ডকালীন কাজ করতে পারেন যা আপনার ভবিষ্যৎ কমক্ষেত্রে অনেক বেশি কাজে আসতে পারে। খন্ডকালীন কাজ গুলো কেমন হতে পারে?

যেমনঃ বিভিন্ন এজেন্সিতে ,আবার আমার মতন একজন কনটেন্ট রাইটার,কনটেন্ট ক্রিয়েটর , ডিজিটাল মার্কেটিং। এ সময় আপনি বিভিন্ন ধরনের কোর্স করতে পারেন।যেমনঃ অনলাইনে আপনি বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স করে সাটিফিকেট নিতে পারবেন।বিভিন্ন সফটওয়্যার ফার্ম থেকে বিশেষ কিছু বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে নেওয়া।
বিবিএ পড়াকালীন সময়ে আপনি ইনকাম শুরু করতে পারেন। ছোট অনলাইন ব্যাবসা,টিউশনি, কোনো কোচিং সেন্টারে পড়ানো,কোন খন্ডকালীন চাকরি।কিভাবে একজন প্রফেশনাল হিসেবে কাজ করবেন তাও কিন্তু বিবিএ আপনাকে শিখাবে।

শুধু তাই নয় বিবিএ আপনাকে শিখাবে কর্মক্ষেত্রে কিভাবে আচার-আচরণ করবেন।ব্যবসার নীতি-নৈতিকতা,প্রফেশনাল কমিউনিকেশন,ম্যানেজমেন্ট স্কিল।এছাড়াও কিভাবে কর্পোরেট জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। ইন্টারপারসোনাল স্কিল,স্পোকেন ইংলিশ, কমিউনিকেশন স্কিল ডেভলপমেন্ট বিবিএ আপনাকে শেখাবে।
একজন বিজনেস গ্রাজুয়েট হিসাবে আপনি ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকা মাসিক ইনকাম করতে পারবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।একজন বিজনেস গ্রাজুয়েট হিসাবে বিশ্বের যেসব দেশে আপনার চাকরির সুবিধা বেশি দেশগুলো হলোঃ হংকং, স্পেন, ফিনল্যান্ড, চীন, ইতালি, জার্মানি, জাপান এই সব দেশে বিবিএ হোল্ডারদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্বের অনেক দেশে বিবিএ তে পড়ার জন্য মেধাবৃত্তি দিয়ে থাকে।তাদের মধ্যে জার্মানি, আয়ারল্যান্ড,সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্স। এদের মধ্যে বিশেষ করে জার্মানি শিক্ষার্থীদের বেশি সুবিধা দিয়ে থাকে।

এবার আসা যাক বিশ্বের টপ বিজনেস স্কুলর নাম। যেখান বিবিএ সবচেয়ে ভালো পড়ানো হয়।বিজনেস স্কুল গুলোঃ লন্ডন বিজনেস স্কুল,হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, ইনসেড বিজনেস স্কুল (ফ্রান্স), স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, পেন্সিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়,এমআইটি,কমার্শিয়াল লুগি বোনি বিশ্ববিদ্যালয় ( ইতালি),অক্সফোর্ড বিজনেস স্কুল, লন্ডন অফ ইকোনমিক্স এন্ড পলিটিকাল সাইন্স, কোপেনহেগেন বিজনেস স্কুল (ডেনমার্ক)। অনেক ভাবতে পারেন আমি বিজনেস স্কুল লিখেছিকেন?তাহলে আমরা কি স্কুলে পড়ি?উত্তর হচ্ছে না। আমাদের বিবিএ ডিপার্টমেন্ট কে ইংরেজিতে (Business Of School)বলা হয়।

বিবিএ পড়ে যে আপনাকে যে শুধু যে চাকরি করতে হবে এমনটি নয় আপনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেন। এখন কার সময়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।এখন অনলাইন ভিত্তিক অনেক অ্যাপস আছে যেসব দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করা যায়। বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করে বিভিন্নধরনের পণ্য বেচা কেনা করা যায়।আপনি বিবিএ তে পড়ে বিভিন্ন ধরনের বিজনেস কম্পিটিশন অংশ গ্রহণ করেতে পারেন।

কম্পিটিশন গুলো হলঃ কেস সলভিং। কেস সলভিং বলতে আমরা যা বুঝি একটি প্রতিষ্ঠান তাদের যে কোন সমস্যা আপনাকে সমাধান করতে দিবে। সেই সমাধানের সূত্র আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে।এছাড়াও রয়েছে এড মেকিং। কোন একটি বিষয়ের উপর আপনি একটি টিভিসি তৈরি করলেন কোন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য।এছাড়াও আইডিয়া নিয়ে বিভিন্নরকম কম্পিটিশন হয়ে থেকে।এসব কম্পিটিশনের প্রাইস মানি প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তাই শুধু চাকরির কথা না ভেবে নতুন কিছু চিন্তা করুন।আমরা অনেকই চিন্তা করি ভালো সিজিপিএ না পেলে হয়তো চাকরি পাবো না।আপনি যেই ক্ষেত্রেই কাজ করতে সবার আগে দেখবেন আপনি সেই বিষয়ে কতটা দক্ষ এবং পারদর্শী। সিজিপিএ যে একবারে লাগে না এটা কিন্তু ধরা যাবে না।আপনি যেই বিষয়টি নিয়ে পড়বেন সেই বিষয়ে উপর একটা মোটামুটি ফলাফল আশা করা যেতেই পারে।আপনি যেই বিষয়ে পড়াশুনা করেন না কেন কখনোই হতাশ হবেন না। একটা ডিগ্রী কখনোই আপনার যোগ্যতা যাচাই করতে পারে না।নিজের উপর আস্থা রাখুন এবং সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করেন।

Leave a Comment

error: Content is protected !!