3. || BPharm নাকি BPharm (Professional) ||

Subject Review- : || BPharm নাকি BPharm (Professional) ||

এই লেখাটা পড়তে পারো

|| BPharm নাকি BPharm (Professional) ||

প্রথম পর্ব:
আলোচনা করার জন্য দুটি ভাগ করা প্রয়োজন। একটি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে, অপরটি বিদেশের পরিপ্রেক্ষিতে। আজকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আলোচনা করা হবে। In the context of Bangladesh, the opportunity of pharmacists to exert their expertise in clinical field is limited. যেহেতু আমাদের দেশে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি বা হসপিটাল ফার্মেসি ধারণাটি এখনও ‘পরিকল্পনা’ স্তরে আটকায়ে আছে, ক্লিনিক্যাল সেট আপে বর্তমানে চাকরির সংখ্যা সীমিত। এপোলো, ইউনাইটেড, স্কয়ার ও অতি উন্নতমানের কিছু হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল সাইডে বি ফার্ম ফার্মাসিস্টের (যেহেতু বি ফার্ম প্রফেশনালের প্রথম ব্যাচ এখনও বের হয়নাই) job opportunity রয়েছে। বি ফার্ম (৪ বছর মেয়াদী) প্রোগ্রামটি more industry oriented বিধায় আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে বি ফার্ম ফার্মাসিস্টদের চাহিদা অত্যধিক।

বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্পের পরই দ্বিতীয় বৃহৎ শিল্প হিসেবে ‘ওষুধ’ শিল্পের পথচলা এবং পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশে (including USA, UK, Australia, Japan, EU) বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানী হচ্ছে। ক্রম বর্ধমান চাহিদার কারণে ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিতে বি ফার্ম ফার্মাসিস্টের চাহিদা অনেক। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে ক্লিনিক্যাল সেট আপে ফার্মাসিস্টের চাকরির কাঠামো তৈরী হয়ে যেতে পারে, যেখানে বি ফার্ম প্রফেশনাল (৫ বছর মেয়াদী প্রোগ্রাম) ফার্মাসিস্টের চাহিদা থাকবে প্রচুর। যেহেতু বি ফার্ম ও বি ফার্ম প্রফেশনাল দুক্ষেত্রেই কোর্সের পড়া more or less একই, সুতরাং দু’ধরনের প্রোগ্রামের ছাত্রছাত্রীরাই মেধার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ পেতে পারে। ক্লিনিক্যাল ক্ষেত্রে বি ফার্ম প্রফেশনাল ডিগ্রিধারীরা অগ্রাধিকার পাবে, তবে বি ফার্ম ডিগ্রিধারীরা দক্ষতার ভিত্তিতে পূর্বোক্তদের অতিক্রম করলে তাদেরও বিবেচনাযোগ্য ভাবা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে দুই ধরণের ফার্মাসি (ব্যাচেলর বা অনার্স) কোর্স রয়েছে।
১. ব্যাচেলর ইন ফার্মেসি – ৪ বছর
২. ব্যাচেলর ইন ফার্মেসি প্রফেশনাল – ৫ বছর

ব্যাচেলর ইন ফার্মেসি বা বি ফার্ম কোর্সে ফার্মাকোলজি এন্ড ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি, হিউম্যান এনাটমি এন্ড ফিজিওলজি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ব্যাসিক প্যাথলজি এন্ড টক্সিকোলজি, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যাল ক্যালকুলেশন্স, স্ট্যাটিস্টিক্স, মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি, ফার্মাসিউটিক্যাল এনালাইসিস, এডভান্সড এনালাইসিস, ফিজিক্যাল ফার্মেসি, ইনঅর্গ্যানিক ফার্মেসি, অর্গ্যানিক ফার্মেসি, ফার্মাকোগনসি, ফার্মাসি প্র্যাকটিস, ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট ছাড়াও মিসেলেনিয়াস কিছু কোর্স পড়ানো হয়, সাথে ল্যাব ক্লাস থাকে আর থাকে ১ মাস মেয়াদি ইন্ডাস্ট্রি ইন্টার্নশীপ, এবং ৬-১২ মাস মেয়াদি রিসার্চ।

ব্যাচেলর ইন ফার্মেসি প্রফেশনাল বা বি ফার্ম প্রফ এ উপরিউক্ত কোর্সগুলি ছাড়াও ফরেন্সিক ফার্মেসি, ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি, হসপিটাল ফার্মেসি, কমিউনিটি ফার্মেসি, পেশেন্ট কাউন্সেলিং, মেডিকেশন মেইন্টেনেন্স, মেডিকেশন ভেরিফিকেশন এবং আরো কিছু সময়োপযোগী কোর্স। সাথে থাকে ১ মাস মেয়াদি ইন্ডাস্ট্রি ইন্টার্নশীপ আর ৬ মাস মেয়াদি হসপিটাল ইন্টার্নশীপ, এবং ৬-১২ মাস মেয়াদি রিসার্চ।

বি ফার্ম আর বি ফার্ম প্রফেশনালের মধ্যে পার্থক্য হল, বি ফার্ম প্রোগ্রামটি more industry oriented, আর বি ফার্ম প্রফেশনাল প্রোগ্রামটি clinic and patient oriented. আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মেডিসিন স্পেশিয়ালিস্ট হিসেবে এবং মেডিসিন এন্ড মেডিকেশন রিলেটেড যেকোন ব্যাপারে বিশেষভাবে দক্ষ পেশাজীবি হিসেবে ফার্মাসিস্টের অপরিসীম ভুমিকার স্বীকৃতি হিসেবে হসপিটাল-ক্লিনিকে রোগীদের সরাসরি সাহচর্যে এসে ফার্মাসিস্টদের কাজ করার সুযোগ তৈরী হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে বর্ধমান চাহিদার কারণে বি ফার্ম প্রফেশনাল প্রোগ্রামের আত্মপ্রকাশ। বাংলাদেশে ফার্ম ডি (ডক্টর অফ ফার্মেসি) চালুর চেষ্টা হয়েছে, যেটা উন্নত দেশে চালু হয়েছে আরও আগেই।

Credits: আমি ফার্মাসিস্ট

Leave a Comment

error: Content is protected !!