3. Electrical Engineering কেনো পড়বো?

3. Electrical Engineering কেনো পড়বো?

Subject Review : EEE

প্রযুক্তির সবকিছুই বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র নির্ভর। সবকিছু মেইনটেইন করার জন্য তড়িৎ প্রকৌশল, ইলেকট্রনিক প্রকৌশল লাগবেই। সবাই নাম শুনেছে… ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল। যা ইলেক্ট্রন নিয়ে আলোচনা করে। নামের মধ্য দিয়েই সাবজেক্ট সম্পর্কে হালকা ধারণা পাওয়া যায়।

সবচেয়ে পুরনো এবং প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোর মধ্যে EEE অন্যতম। আশেপাশের চারদিকে ইলেক্ট্রনিক্সের বিপ্লব দেখে নিশ্চয়ই এই সাবজেক্ট পড়ুয়াদের গুরুত্ব বা চাহিদা আগ বাড়িয়ে বলে দিতে হবে না!!

আপনার এইচএসসি তে যদি ফেভারিট সাবজেক্ট হয়ে থাকে Math বা Physics তাহলে EEE পড়া নিয়ে কোন ভয় নেই। নিঃসন্দেহে এখানে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন। যদি Equation Solve করতে মজা লাগে, ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের বিদ্যুতের চ্যাপ্টারগুলো যদি কাছে অসহ্য না লাগে, তাহলে EEE আপনাকে হতাশ করবে না কোনদিন…

সার্কিট নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে মজা লাগে? রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশ, হুইটস্টোন কার্শফের অঙ্ক করতে ভালো
লাগে? লাগে??? আরে মিয়া ত্রিপোলি তো আপনার জন্য!! আপনার যদি উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকে, আর থাকে লেগে থাকার ইচ্ছা তবে তাইলে প্রিপোলি পড়ে অনেক বড় কিছু করে জাতিকে দেখিয়ে দিতে পারবেন।

প্রকৌশলিক invention সবচেয়ে চমকপ্রদভাবে দেখানোর উপযুক্ত জায়গা হলো ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। কিন্তু কথা হচ্ছে, আপাতদৃষ্টিতে দেখতে যেমন মনে হয়, ত্রিপোলি আসলে তেমন ছোট পরিসরের কোন সাবজেক্ট না।

ইইই এর সাবডিসিপ্লিনগুলো লক্ষ্য করেন:
1.Power
2.Electronics
3.Telecommunication

4.Computers


এখন এই চারটি বিষয় নিয়ে কিছু বলি:-
Power সেক্টরের ব্যাপারটা মনে হয় সবাই এমনিতেই বুঝতে পারছেন। যারা বিদ্যুত উৎপাদন আর সরবরাহের
দায়িত্বে থাকে। এই সেক্টরের চাহিদা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মুহুর্তে প্রচুর। চাহিদা পুরনের জন্য প্রতি

বছরই নতুন নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে।(তবে বাংলাদেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার দের বেশী সুযোগ দিচ্ছে…ব্যাপার নাহ…ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও চলছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। আর এই সেক্টরের দায়িত্বই থাকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে) আর বড় বড় প্লান্ট যেমন স্টীল এর KSRM,BSRM এরকম এতে প্রচুর জব ফিল্ড।) So, যারা নিজেকে একজন Power management engineer হিসেবে দেখতে চান তারা নিঃসঙ্কোচে EEE নিতে পারেন।

——————————————————————————————————-

Telecommunication, যোগাযোগ নিয়ে কাজকারবার। মোবাইল ফোন কোম্পানিতে মাঝের কয়েক বছর ইইই
ইঞ্জিনিয়ারদের বিশাল চাহিদা ছিলো। আমাদের মত দেশে নতুন নতুন নেটওয়ার্ক, টাওয়ার, কভারেজ তৈরিসহ
সমগ্র সিস্টেম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে আছে বিপুল সংখ্যক ইইই ইঞ্জিনিয়ার। শুধু এক Grameenphone এই এখন কাজ করছে প্রায় ৫ হাজার প্রকৌশলী, যার বেশিরভাগই ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ব্যাকগ্রাউন্ডের। যত

নতুন নতুন টেকনোলজি আসবে, অত চাহিদা Expand করবে। যারা নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত Telecommunication Engineer হিসেবে দেখতে চান, তাদের জন্য অবশ্যই EEE.

——————————————————————————————————–

Computer আসলে এমন এক ব্যাপার যাকে কোন কিছু থেকেই আলাদা করা যাবে না। ত্রিপোলি থেকে পড়ে
পরবর্তীতে Software Engineer হয়ে গিয়েছে এমন উদাহরনও আছে অনেক। যদি প্রোগ্রামিং ভালো বোঝেন,
কম্পিউটারে ভালো দখল থাকে, তবে ত্রিপোলি পড়েও খুব সহজেই CSE সাইডে Divert হতে পারবেন। যাকে যা suit করে আরকি!!! আবার অনেক ভার্সিটি ত্ EEE কে মোডিফাই করে ETE,ECE মানে ইলেকট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন বা কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং নামে ডিগ্রী অফার করছে। এগুলো ত্রিপোলির কাছাকাছি।

———————————————————————————————————

Electronics নিয়েও সবাই হালকা পাতলা কিছু জানে। Resistor, Capacitor, Inductor এসবের নাম তো শুনেছি, এখনকার সময়ে যত ডিভাইস দেখছি, তার বেশিরভাগই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট দিয়ে ডিজাইন করা।
স্মমার্টফোন, আইপ্যাড, নোটপ্যাড, ল্যাপটপ সবগুলোই ইলেক্ট্রনিক্সের.. Microcontroller এর নাম হয়তো
কেউ কেউ শুনে থাকবেন। যা রোবটিক্স নিয়ে পড়াশোনার ব্যাপক ইচ্ছা যাদের, তাদের জন্য microcontroller হলো একেবারে শুরুর ধাপ। তবে হ্যা, এদিক দিয়ে আগাতে হলে অবশ্যই পরিশ্রমী আর উদ্যমী হতে হবে।

যাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বেশি, বিস্তর ইচ্ছা আছে এই rapidly running টপিক নিয়ে পড়াশোনা করার, তার জন্য  EEE’র দরজা সদা উন্মুক্ত।

 

———————————————————————————————————–
ত্রিপোলি পড়ছেন বলে যে প্রোগ্রামার হতে পারবেন না বা সফটওয়্যার বানাতে পারবেন না এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল। যদি Electronics এর পাশাপাশি সফটওয়্যার  নিয়েও ঘাটাঘাটি করতে ইচ্ছে করে তাহলে সহজেই
ইইই নিতে পারেন। এখানে এই সুযোগ প্রচুর।  চাকরির বাজার নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না। শুধু বলবো EEE হলো একটা Everlasting Subject. যতদিন পৃথিবী টিকে থাকবে অতদিন এর ডিমান্ড কমবে না। দেশে থাকতে পারলে ভালো, যদি তা সম্ভব না হয়, জন্য আছে বাইরে যেয়ে পড়াশোনা করার অফুরন্ত ক্ষেত্র। দেশে বিদেশে সবজায়গাতেই আপনার সম্মানজনকঅবস্থান থাকবে। চাকরি নেই, হাজার হাজার স্টুডেন্ট হয়ে গেছে, এমন শোনা কথায় কান দিয়েন না….যদি যোগ্যতা আর মেধা থাকে, তবে EEE পড়ে একদিনও বসে থাকতে হবে না। ঠিকই আপনার Deserving পজিশনে যেতে পারবেন।
———————————————————————————————————
আর স্যালারি? এটাও বলবো না। ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই জানতে পারবেন। আমার নিজের মতামত হলো
স্যালারির উন্মাদনার চেয়ে বিষয়টার প্রতি আকর্ষন থেকেই ইইই তে আসা উচিত। বেশী খাই খাই যাদের তাদের কাচকলা ও জোটে না

Leave a Comment

error: Content is protected !!