English Literature নাকি English Language Teaching! কোনটা পড়বো?

English Literature নাকি English Language Teaching! কোনটা পড়বো?

English Literature বা ইংরেজি সাহিত্য :
বর্তমানে দেশের সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে জনপ্রিয় সাবজেক্টগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে English Literature বা ইংরেজি সাহিত্য। বহুমুখী ক্যারিয়ার গঠনের সুবিধা এবং অসংখ্য স্নাতক সুযোগ থাকার কারণে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এতে ভর্তি হয়। বিষয়টিতে অধ্যয়নের ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত। তবে এই বিস্তৃত ক্ষেত্র থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা প্রায়শই English Literature এর একটি ডিগ্রি আসলে কী প্রদান করে বা এই সাবজেক্ট নিয়ে পড়ার ভবিষ্যত কি তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। অনেকেই মনে করে English Literature নিয়ে পড়া মানে কবি বা সাহিত্যিক এই জাতীয় কিছু হয়ে যাওয়া বা এগুলোর উপর গবেষণা করা। আসলে বিষয়টি তা না। English Literature এর উপর ডিগ্রি নিয়ে একজন শিক্ষার্থী লেখক বা গবেষক থেকে শুরু করে শিক্ষক, সংবাদপাঠক, সাংবাদিক, ফ্রিল্যান্স রাইটার, কন্টেন্ট ম্যানেজার কিংবা মার্কেটিং ম্যানেজারের চাকরি ছাড়াও আরও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে পারে।

English Literature বিষয়টি কি?
English Literature বিষয়টি বলতে সারা বিশ্ব থেকে ইংরেজি ভাষায় লেখা পাঠের অধ্যয়নকে বোঝায়। English Literature নিয়ে পড়লে কীভাবে প্রচুর পাঠ্য বিশ্লেষণ করতে হয় এবং বিভিন্ন শৈলী ব্যবহার করে স্পষ্টভাবে লিখতে হয় সেই বিষয়গুলো শিখতে পারবেন। সাধারণত লিটারেচার বা সাহিত্য বলতে উপন্যাস, নন-ফিকশন, কবিতা এবং নাটক সহ বিভিন্ন ধরনের পাঠ্যকে বোঝায়। তবে সাহিত্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শব্দ, কারণ যোগাযোগের নতুন মাধ্যম বিভিন্ন ধরনের সমসাময়িক সাহিত্য প্রদান করে। সাহিত্যকে সাধারণত শৈল্পিক যোগ্যতার সাথে লেখা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। অন্যান্য ধরনের পাঠ্য যেমন চিত্রনাট্য, ননফিকশন, গানের কথা, এবং ব্লগ এবং অন্যান্য মাধ্যমে অনলাইন যোগাযোগও এখন বোঝার সুবিধার্তে সমসাময়িক সাহিত্য হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। একটি English Literature এর কোর্স প্রধানত ইংরেজি ভাষাভাষী বিশ্বের ঐতিহাসিক এবং বিখ্যাত সব কবিতা, নাটক এবং গদ্য কথাসাহিত্য সহ পাঠ্যগুলি কভার করবে, তাছাড়া সংক্ষিপ্তভাবে একাডেমিক কারিকুলামে সাহিত্যের আরও গভীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিষয়গুলিকে কভার করবে।

আপনি যদি ইংরেজি সাহিত্য বা English Literature নিয়ে পড়তে চান তবে কীভাবে বিভিন্ন পাঠ্য এবং শৈলী পড়তে হয়, বিভিন্ন ধরণের ভাষার ব্যবহার এবং অর্থ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হয় তা জানতে পারবেন। এছাড়াও শৈলীগতভাবে বিভিন্ন আকারে স্পষ্টভাবে, সংক্ষিপ্তভাবে এবং বিশ্লেষণাত্মকভাবে লিখতে শিখবেন। সাধারণত, সাহিত্যের কোর্সগুলিকে বিভিন্ন ফোকাসে বিভক্ত করা হয়: ব্রিটিশ সাহিত্য, আমেরিকান সাহিত্য, বিশ্ব সাহিত্য, এবং সময়কাল (১৮০০ সালের এর আগে এবং ২০০০ সালের পরবর্তী)। আপনার এই কয়েকটি বিষয়ের উপর মূল কোর্স থাকবে এবং আপনার নিজের পছন্দের কোনো বিষয় যেমন সৃজনশীল লেখা বা নাটক থাকলে তা কোর্সের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। 

 

কেন পড়বেন English Literature?
ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়লে আপনি আপনার চারপাশের বিশ্ব সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা পাবেন। ইংরেজি সাহিত্যের উপর একটি ডিগ্রি আপনাকে সমস্ত ক্ষেত্রে সুন্দর ও গভীরভাবে ভাবতে এবং বিশ্লেষণ করতে শেখায়। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়লে একজন শিক্ষার্থী হিসাবে যখন আপনি একজন নিয়োগকর্তার কাছে যাবেন তখন আপনার এই ডিগ্রি প্রমাণ করবে যে আপনার ইংরেজি ভাষার উপর দৃঢ় ধ্যান ধারণা রয়েছে এবং আপনি পেশাদার ইংরেজিতে দক্ষ। আপনি যদি ইংরেজি ভাষার উপর দৃঢ় দখল পেতে চান, আপনার চারপাশের বিশ্ব সম্পর্কে আপনার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ গড়ে তুলতে চান এবং এমন একটি ডিগ্রিতে অধ্যয়ন করতে চান যা আপনাকে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সুযোগ প্রদান করবে, ইংরেজি সাহিত্য আপনার জন্য দারুণ একটি পছন্দ হতে পারে। এটি আপনাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে জটিল বিষয়গুলি সম্পর্কে সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে শেখায়।

উদাহরণস্বরূপ, কোর্সের প্রথম বছরে আপনি শিখবেন কীভাবে বিভিন্ন তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাহিত্যের পাঠ্যগুলিকে বিবেচনা করতে হয়। ইংরেজি সাহিত্যে পাঠ আপনার জানার পরিসরকে প্রসারিত করে। এতে যে পাঠ্যগুলি শেখানো হয় সেগুলিতে প্যারাডাইস লস্ট এবং শেক্সপিয়রের নাটকের মতো সাহিত্যের ক্লাসিকগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে সেগুলির মধ্যে রয়েছে শ্রমজীবী-শ্রেণীর লেখা, ক্রীতদাস বর্ণনা, প্রতিবাদ সাহিত্য এবং কারাগারের সাক্ষ্য। পাশাপাশি শিক্ষার মডিউলগুলি যেগুলি নির্দিষ্ট সময়কাল এবং ঘরানার উপর ফোকাস করে কারিকুলামে সেই মডিউলগুলিও শেখানো হয়। শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যাতে শিক্ষাদান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, দাতব্য সংস্থা, পর্যটন, মিডিয়া, সৃজনশীল শিল্প এবং ঐতিহ্যে তারা স্থান করে নিতে পারে। 

 

English Literature এ ক্যারিয়ার :
দেশের বাজারে English Literature নিয়ে পড়ার শেষে বিভিন্ন সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ আছে। বলতে গেলে এখন একজন ইংরেজি জানা ব্যক্তির চাকরিবাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ইংরেজি নিয়ে স্নাতক শেষে ক্যারিয়ার গড়তে কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না। ব্যাঙ্ক কিংবা বিমা ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসিং এবং যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা সব জায়গায় ইংরেজি পড়ুয়া শিক্ষার্থীর চাহিদা রয়েছে। কর্পোরেট কমিউনিকেশন, বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় ইংরেজির প্রয়োগ শিক্ষণ, বাণিজ্যিক সংস্থায় কনটেন্ট রাইটিং এবং বিজনেস এনালাইসিস বা এই ধরনের কাজে একজন ইংরেজি জানা ব্যক্তির চাহিদা তুলনামূলক বেশিই থাকে। 

আর যদি বিদেশ থেকে একবার উচ্চশিক্ষা নিয়ে আসা যায় তাহলে তো কথায় নেই! কিংবা অনেকে আবার English Literature নিয়ে পড়ার পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়ে সেখানেই ক্যারিয়ার গড়ে তোলে। আর যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইংরেজির চাহিদা তো রয়েছেই। হোটেল এন্ড রিসোর্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব, রিসিপশনিস্ট, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল গাইড, মিউজিয়াম গাইড সহ এমন অনেক সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই সাথে বিনোদন জগত তো আছেই। সিনেমার পরিচালনা, সম্পাদনা, সিনেমাটোগ্রাফি, স্ক্রিপ্ট লেখা, অভিনয়, ফিল্ম রিভিউ, গ্রাফিক ডিজাইন, ফ্যাশন শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইংরেজি জানা লোকদের কদর এখন সর্বাধিক। 

সাংবাদিকতা, সংবাদপাঠ, সঞ্চালনা, সম্পাদনা, জনসংযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলিতে ইংরেজির স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ছেলেমেয়েদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে এখন বেশ কিছু নিউজ ও টিভি চ্যানেল গড়ে উঠছে যেগুলো ইংরেজিতে সংবাদ প্রচার করে। তাছাড়া অনলাইন বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল কিংবা ফ্যাশন সাইট বা ব্লগিং সাইট তো আছেই। এগুলোর জন্য এখন ইংরেজি জানা লোকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। 

 

English Language Teaching:
মাতৃভাষার পাশাপাশি কীভাবে আমরা একটি দ্বিতীয় ভাষা শিখতে পারি? কেন নতুন কোনো ভাষা আয়ত্ত্ব করাটা আমাদের কাছে কঠিন মনে হয়? মানুষ আসলে ভাষাটাকে আয়ত্ত্বে আনে কীভাবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে English Language Teaching কোর্সের মূল বিষয়বস্ত। যারা ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে চায় বা পরবর্তীতে ইংরেজি নিয়ে তাদের ক্যারিয়ার শুরু করতে চায় তাদের জন্য English Literature এর মতোই পছন্দের আরেকটি বিষয় হচ্ছে English Language Teaching। বাংলাদেশের বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং এর কোর্স চালু আছে। 

 

English Language Teaching বিষয়টি কি?
বিষয়টির নামের মধ্যেই আমাদের এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু ধারণা চলে আসে। এই কোর্সটিতে মূলত দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজির বেসিক থেকে শুরু করে গভীরস্তর পর্যন্ত আলোচনা করা হয়ে থাকে। ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং এর মাধ্যমে আপনি যেমন ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে শিখবেন ঠিক তেমনি আপনি আপনার কোর্সের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ইংরেজি শেখানোর বিষয়েও শিখবেন। এবং আপনাকে ভাষা এবং লিঙ্গ, সূত্রভিত্তিক ভাষা, কর্পাস অধ্যয়ন, দ্বিভাষিকতা, দ্বিভাষিক প্রক্রিয়াকরণ এবং কোড স্যুইচিংয়ের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রগুলিতে কাজ করা এবং গবেষণায় সক্রিয় শিক্ষাবিদদের দ্বারা শেখানো হবে।

ইংরেজি ভাষা শিক্ষার এবং ইংরেজি ভাষা শেখানোর এই সম্মিলিত প্রোগ্রামটি আপনাকে একটি চমৎকার ক্যারিয়ার গঠন করার সুযোগ দেবে যদি আপনি স্নাতকোত্তর শিক্ষক প্রশিক্ষণের পরে একটি বিদেশি ভাষা হিসাবে ইংরেজি শেখানোর পরিকল্পনা করে থাকেন। তাছাড়া আপনি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে যাদের দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজি তাদের পড়াতে পারেন। দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি শেখা ও অন্যদের শেখানোর চমৎকার এই প্রোগ্রামটিই মূলত English Language Teaching। এ কোর্সের প্রথম কিছু সময় নিজে শেখার পর বাকি পুরোটা সময় কীভাবে অন্যদের ইংরেজি শেখাবেন তা নিয়েই কাজ করতে হবে।

 

কেন পড়বেন English Language Teaching?
যদি নিজেকে নতুন একটি ভাষায় অভ্যস্ত করতে চান, নতুন কোনো কিছু অনুসন্ধান করতে চান কিংবা আপনার অনুসন্ধিৎসু মন যদি দেশের বাইরে গিয়ে ইংরেজি ভাষাভাষী বিশ্বে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে English Language Teaching কোর্সটি আপনার জন্য। কোর্সটি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা শিক্ষার প্রাথমিক ধারণা এবং সমস্যাগুলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। এটি ELT এর ইতিহাস, মূলধারার পন্থা এবং নতুন প্রবণতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিবে। শিক্ষার্থীরা ব্যাকরণ অনুবাদ, অডিওলিঙ্গুয়ালিজম, উপস্থাপনা, অনুশীলন এবং উৎপাদন, যোগাযোগের ভাষা শিক্ষা, টাস্ক-ভিত্তিক শিক্ষা, এবং বিষয়বস্তু এবং ভাষা সমন্বিত শিক্ষার পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতি এবং পদ্ধতির সাথে পরিচিত করিয়ে দিবে। শিক্ষার্থীরা ইংরেজিকে একটি আন্তর্জাতিক ভাষা, সাধারণ ইউরোপীয় রেফারেন্স ফ্রেমওয়ার্ক এবং একটি পেশা হিসাবে ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদানের জন্য নিজেকে শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং পেশাদার বিকাশের ক্ষেত্রে গড়ে তুলতে পারবে। 

কোর্সটির প্রথম বছরে মূল ইংরেজি ভাষার মডিউলের পাশাপাশি আপনাকে মানুষেত ভাষা এবং মন নিয়ে খুঁটিনাটি সব জানতে হবে। এখানে কোর্সের প্রথম ধাপ হিসেবেই একটি শিশুর বক্তৃতার প্রতিলিপি বিশ্লেষণ করতে হবে এবং তার মুখের ভাষা বোঝার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আঞ্চলিক ভেরিয়েন্ট, পিডগিন এবং ক্রেওল ইংরেজি, ভাষা এবং জাতিসত্তা এবং স্ল্যাং এবং রাস্তার ইংরেজি সহ ইংরেজি ভাষার ব্যবহারের বৈচিত্র্যও অন্বেষণ করতে হবে। দ্বিতীয় বছরের মূল মডিউলগুলি ইংরেজি ব্যাকরণ এবং ইংরেজির শব্দগুলিতে ফোকাস করে। আপনি কীভাবে এবং কেন ভাষা বিকাশ করেছেন তার তত্ত্বগুলি আপনাকে এখানে অন্বেষণ করতে হবে। কোর্সের এই সময় অগ্রগতি যাচাইয়ের জন্য একটি ভাষা দক্ষতা মডিউল নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। 

 

English Language Teaching এ ক্যারিয়ার:
যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে English Language Teaching নিয়ে পড়াশোনা বেছে নেন, তাহলে আপনি নিশ্চিত ইংরেজিতে লেখা এবং কথ্য যোগাযোগের দক্ষতা বিকাশে পারদর্শী হয়ে উঠবেন। 

ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি যেকোনো সেক্টরেই আপনার ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ পাচ্ছেন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী না হওয়া সত্ত্বেও আপনি একাউন্টিং কিংবা ফিন্যান্সের মতো সেক্টরগুলোতে খুব সহজেই চাকরি করতে পারছেন। ছোট ছোট শিল্পের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করে হচ্ছে মিডিয়া সেক্টর। ফিল্ম থেকে টেলিভিশন, সংবাদপত্র থেকে নিউজ ব্লগ, বিজ্ঞাপন থেকে পিআর এবং গেমিং থেকে গেম পর্যালোচনা সবকিছুই কভার করে এই সেক্টরটি। আপনার পছন্দের যেকোনো ফিল্ডে আপনি চাইলে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন তবে দেখতে হবে আপনি নতুন কোনো স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে, লিখতে, সম্পাদনা করতে, পর্যালোচনা করতে, সময়সূচী করতে, প্রচার করতে, পরিচালনা করতে চান বা চালাতে চান কিনা! মিডিয়াতে ইংরেজি জানা লোকের অগ্রাধিকার বলা যায় সবার আগে থাকে। তাছাড়া প্রকাশনা শিল্পও এখন এদিক দিয়ে বেশ এগিয়ে। আপনার ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ডিগ্রি আপনাকে প্রকাশনা শিল্পে নিয়ে যেতেও পিছু হটবে না। সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, ই-বুক, ডিজিটাল প্রিন্টিং সহ প্রকাশনা ব্যবসায় এখন বিরাট পরিবর্তন এসেছে। খুব সহজেই চাইলে এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন। আর সংবাদপত্র পাঠ বা সাংবাদিকতার বিষয়টি তো আছেই।

এডাভার্টাইজিং, মার্কেটিং, পিআর এ ক্যারিয়ার গঠন করতে এখন সবচেয়ে বেশি সুযোগ পায় একজন ইংরেজি জানা ব্যক্তি। এডাভার্টাইজিং, মার্কেটিং এবং পিআর এর কাজ বিভিন্ন সেক্টর জুড়ে পাওয়া যায় এবং প্রায় প্রতিটি ব্যবসায় এর অন্তত ছোট একটি কাজ হলেও থাকবেই। আর যদি আপনার ইচ্ছা থাকে টিচিং এন্ড একাডেমিক ক্যারিয়ারের দিকে তাহলে দেশের সরকারি বেসরকারি স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ও আপনাকে সেই সুযোগ করে দিবে। ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং নিয়ে পড়ার পর অধিকাংশই শিক্ষক হিসেবে তাদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলে। আবার অনেকে দেখা যায় বিভিন্ন ভাষা গবেষণা সংস্থাতেও গবেষক হিসেবে নিজেদের ক্যারিয়ার বেছে নেয়। সিভিল সার্ভিস ওয়ার্কার, গভর্নমেন্ট ওয়ার্কার, হেলথ ওয়ার্কার হিসেবেও আপনি আপনার ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ডিগ্রি দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি যে ইংরেজির উপর ডিগ্রি নিয়ে একজন চাইলে আইন নিয়েও ক্যারিয়ার গড়তে পারে আবার একাউন্টিং, ফিন্যান্স কিংবা বিজনেসের মতো সেক্টরগুলোতেও তাদের ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। এই সেক্টরগুলোর সবকিছু যে ব্যবসায় শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য তা কিন্তু না, একজন ইংরেজি জানা লোকের চাহিদা এখানে নেহায়েত কোনো অংশেই কম না। 

 

English Literature নাকি English Language Teaching! কোনটা পড়বো?

English Literature, English Language Teaching দুইটি বিষয় নিয়েই আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। এই বিষয়গুলো মূলত কি, কেন এগুলো পড়বো বা পড়ানো হয়, ভবিষ্যতে এর চাহিদা কেমন বা কীভাবে এই বিষয়গুলোতে অধ্যয়ন করে ক্যারিয়ার গঠন করা যায় তা নিয়েও সংক্ষেপে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অনেককেই দেখা যায় একজনের দেখাদেখি একটি বিষয় নিয়ে ভর্তি হয়ে যায় বা বর্তমানে বিষয়টির চাহিদা বেশি দেখে বা লোকমুখে প্রচলিত দেখে ভর্তি হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে কীভাবে ক্যারিয়ার গড়বে, কোন সেক্টরে তাদের সুযোগ আছে বা তাদের যোগ্যতা কিরকম হওয়া উচিত বা ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত, এর জব সেক্টর কেমন প্রতিযোগিতাপূর্ণ তা পূর্ণাঙ্গ না জেনেই ভর্তি হয়ে যায়। অনেকে সঠিক গাইডলাইনের অভাবেও দেখা যায় ডিগ্রি নিয়ে আর এগোতে পারছে না বা তাদের পরবর্তীতে কি করা উচিত তা ভেবে পাচ্ছে না। তাই আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের উচিত কোন বিষয় নিয়ে পড়লে কীভাবে পড়তে হবে, কি কি সুযোগ সুবিধা আছে, কীভাবে এবং কোথায় নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে।

English Literature এবং English Language Teaching এই দুটি সাবজেক্টেরই বাজারে চাহিদা আছে। ইংলিশ এমন একটি সাবজেক্ট যা যেকোনো জব সেক্টরের জন্যই প্রযোজ্য। তবে English Literature আর English Language Teaching দুটোর মধ্যে একাডেমিক কারিকুলামে বেশ ভিন্নতা আছে। একটি কেবল আপনাকে ইংরেজি সাহিত্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে আর সেখানে পড়তে পড়তে ইংরেজির উপর আপনার দক্ষতা তৈরি হবে আর অন্যটি আপনাকে ইংরেজির সমস্ত খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে ভাষার একদম গভীরস্তর পর্যন্ত শেখাবে। English Language Teaching কোর্সটি আপনাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজির আয়ত্ত্বটা একদম নাগালে এনে দিবে যা আপনি ইংরেজি সাহিত্যের কোর্সে পাবেন না। এদিক বিবেচনায় দেখতে গেলে ইংরেজি সাহিত্য আর ইংরেজি টিচিং এর মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। আর জব সেক্টর বা চাহিদার কথা বিবেচনা করলেও দেখা যায় ইংরেজি সাহিত্যের চেয়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার কোর্সের সুবিধা তুলনামূলক বেশি। তবে যে সাবজেক্ট নিয়েই পড়ুন না কেন এটা মাথায় রাখতে হবে যে নিজেকে যত স্কিল্ড হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন জব সেক্টরে আপনার চাহিদা তত বেশি থাকবে, কোনো সাবজেক্টের উপর নির্ভর করে সুবিধা বেশি দেওয়া হয় না। 

Leave a Comment

error: Content is protected !!