IELTS PREPARATION :

IELTS PREPARATION 

পর্ব :১

বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা স্থায়ী আবাসনের জন্য ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতা যাচাই করা হয়।যদি ইংরেজি আপনার মাতৃভাষা না হয়ে থাকে, তাহলে আপনাকে ইংরেজি ভাষার উপর আপনার দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে IELTS, TOEFL, PTE পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। এসকল পরীক্ষার মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় IELTS। কিছু কিছু দেশে আবেদন এর জন্য IELTS দেয়া বাধ্যতামূলক।

আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইংরেজির প্রতি সর্বদা ভয় কাজ করে।যার ফলশ্রুতিতে IELTS এর জন্য প্রস্তুতি নিতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। IELTS এর প্রস্তুতির পূর্বে এর সম্পর্কে বিস্তারিত ধরণা রাখা জরুরি। কেননা, কোনো বিষয় সম্পর্কে সাম্যক ধারণা না থাকলে প্রস্তুতিও অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।

IELTS প্রাককথন :
 International English Language Testing System (IELTS)।এটি ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত। যা ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশে আইএলটিএস এর পরীক্ষা কোথায় পরীক্ষা নেয়া হয়?
বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি আইএলটিএস পরীক্ষা নিয়ে থাকে। আপনি যেখানেই পরীক্ষা দেন না কেনো মূল্যায়ন একই ভাবেই হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আপনার কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না।যে কেউ চাইলে IELTS পরীক্ষা দিতে পারবে।এর সবচেয়ে মজার দিক হলো এখানে কোনো পাশ ফেল নেই। আপনার যতোবার ইচ্ছে ততোবার পরীক্ষা দিতে পারবেন। তবে প্রতিটি সার্টিফিকেট এর মেয়াদ থাকে ২ বছর। বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই পরীক্ষা দেয়া যায়। পরীক্ষার দিন পাসপোর্ট সহ উপস্থিত হতে হবে।

পরীক্ষায় নির্ধারিত ফি:
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এর জন্য আপনাকে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। ফি এর পরিমান (২৪০-২৬০) ডলার সমমূল্যের টাকা। প্রতিবছর ফি এর পরিমাণ কিছুটা হ্রাস বা বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

ফলাফল প্রকাশের সময়:
অফলাইন : পরীক্ষা দেয়ার (১৩-১৫) কার্যদিবসে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনলাইন: (৩-৫) কার্যদিবসে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল আশানুরূপ না হলে পুনরায় ফি এর বিনিময়ে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

IELTS এর প্রকারভেদ:
আইএলটিএস পরীক্ষা মূলত দুই ধরনের পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।
১. একাডেমিক।
২.জেনারেল।

যারা উচ্চশিক্ষার (স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি) জন্য যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য একাডেমিক পদ্ধতি এবং যারা কর্মসংস্থান বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যেতে চান তাদের জন্য জেনারেল পদ্ধতি।

এই দুই ধরনের আইএলটিএস এ ৪টি আলাদা ভাগ -লিসেনিং,রিডিং,রাইটিং, স্পিকিং এর মাধ্যমে পরীক্ষা হয়ে থাকে। যেখানে পরীক্ষক আপনার শোনা,পড়া,লেখা ও বলার দক্ষতা যাচাই করবেন। জেনারেল ও একাডেমিক পদ্ধতির পরীক্ষার মাঝে পার্থক্য হলো রিডিং এবং রাইটিং সেকশনে। একাডেমিক পদ্ধতির রিডিং ও রাইটিং জেনারেল পদ্ধতির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়ে থাকে। আইএলটিএস এর সর্বোচ্চ ব্যান্ড স্কোর ৯। প্রতিটি আলাদা আলাদা ভাগ হতে প্রাপ্ত নম্বর এর গড় থেকে সামগ্রিক নাম্বার প্রদান করা হবে।

লিসেনিং,রিডিং, রাইটিং এই তিনটি সেকশন এর পরীক্ষা একই দিনে হয় এবং স্পিকিং টেস্ট বাকি তিন সেকশনের আগে পিছে ৭ দিনের মাঝে হয়ে থাকে। ক্ষেত্রবিশেষে একইদিনেও হতে পারে।

লিসেনিং:
লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় মূলত লিসেনিং দিয়ে। মূলত, চারটি সেকশন থাকে।প্রতিটি সেকশনে দশটি করে প্রশ্ন থাকে।প্রথম সেকশন তুলনামূলক সহজ হয়। ধাপে ধাপে প্রশ্ন কঠিন হতে থাকে। মোট প্রশ্ন থাকে ৪০ টি। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ নম্বর। এই প্রশ্নগুলো মূলত হয় শূন্যস্থান পূরণ,এমসিকিও,ম্যাপ রিডিংইত্যাদি। ম্যাপ ও এমসিকিও এর জন্য ভালো করে প্রিপারেশন নিতে হয়।কারণ,এই দুটি অন্যান্যগুলোর তুলনায় কঠিন হয়।

প্রতিটি সেকশনের মাঝে কিছুটা বিরতি থাকে। লিসিনিং এ ৪০ মিনিট সময় দেয়া হয়। হেডফোনের মাধ্যমে অডিও রেকর্ড শুনানো হয়।অডিও রেকর্ড শুনানোর আগে আপনাকে প্রশ্ন পড়তে কিছুটা সময় দেয়া হবে। বিচক্ষণতার সাথে সময়টি কাজে লাগাতে হবে।

প্রথম ৩০ মিনিট আপনি কম্পিউটারে চালানো ভয়েস রেকর্ডের মাধ্যমে প্রশ্ন শুনতে শুনতে উত্তর লিখতে পারবেন। শেষ সেকশনে গেলে উত্তরপত্রে উত্তর লেখার জন্য ১০ মিনিট সময় দেয়া হয়। এক্ষেত্রে, বানানে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।কারণ ভুল বানানে নাম্বার কাটা যাবে।মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করা চলবে না।কোনোভাবে একটি প্রশ্ন ছুটে গেলে ঘাবড়ে না গিয়ে পরবর্তী প্রশ্নে মনোযোগ দিতে হবে।

লিসেনিং এর ক্ষেত্রে প্রস্তুতি :

১/লিসেনিং এর ক্ষেত্রে ভালো করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ক্যামব্রিজ আইএলটিএস বই থেকে সবগুলো লিসেনিং টেস্ট অনুশীলন করা।
২/ নিজে নিজে প্রস্তুতি নিতে চাইলে আপনি ইউটিউব এর সাহায্য নিতে পারেন।সেখানে প্রচুর ট্রিকস দেয়া থাকে।
৩/ এছাড়া, বিভিন্ন ইংরেজি ডকুমেন্ট, খবর,মুভি ও সিরিজ দেখতে পারেন।এতে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!