Subject Review – CSE

CSE তে আপনি কী Computer Engineer হতে পারবেন?

CSE তে ভর্তি হবার পূর্বে নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কী Computer Engineer (CSE) হতে পারবেন? কম্পিউটার এর সাথে আপনার কি পরিচিতি আছে আজও? আমি জানি, এমন অনেকই রয়েছেন যারা স্কুল জীবন থেকেই নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার কিংবা কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে দেখার সপ্ন দেখেন। সত্যিকার অর্থে কম্পিউটার সাইন্স মূলত তাদের জন্যেই। তবে যাদের এই বিষয়ে মুটেও ধারণা নেই তারাও চাইলে সফল হতে পারবেন। এ জন্যে তাদের অতিরিক্ত শ্রম দিতে হবে। তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবেন?

বর্তমানে আমার অনেক পরিচিত বন্ধু-বান্ধব আছে যারা ৪/৫ টা সেমিস্টার শেষ করে ফেলছে কিন্তু কম্পিউটার চালাতে জানে না। তাদের রেজাল্ট এখন অনেক ভালো যদিও, ভাল রেজাল্ট নিয়ে পাস করে কি করবে তারা? মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে ভাল রেজাল্ট করা সহজ কিন্তু বাস্তব জীবনে এইটা কোনো কাজে আসবে না যদি আপনি নিজে কাজ না জানেন।

অনেকেই ভাবতে পারেন, কম্পিউটার সম্পর্কে আইডিয়া না থাকার কারণে কী তার সপ্ন পূরণ হবে না? প্রথমে বুঝতে হবে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখা সপ্ন খুব কম সময়ই বাস্তবতা পায়। আর যেই সপ্ন রাতার ঘুমকে হারাম করে, তাই হল সত্যিকার সপ্ন। যে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবার সপ্ন দেখে তার অবশ্যই কিম্পিউটার সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান থাকবে।
যারা প্রথম প্রশ্নে নিজেকে উন্নীত করতে পেরেছেন তারা পরবর্তি লিখাটুকু পড়েন। আপনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবেন কিন্তু এখন আরো গভীরে চিন্তা করতে হবে। একটি কম্পিউটারে যেমন অনেকগুলো পার্ট রয়েছে তেমনি কম্পিউটার এ ফিউচার গড়ার অনেক ভাল উপায় আছে। যেমন:

সফটওয়ার ডেভলাপমেন্ট
নেটওয়ার্কিং
গ্রাফিক্স ডিজাইন
গেইম ডেভমলাপমেন্ট
রোবটিক্স
প্রবলেম সলভিং।

চিন্তা করেন, যদি ৪ বছর এই মোলিক বিষয়গুলোর যেকোন একটি নিয়ে সাধনা করেন তাহলে কেরিয়ারে আপনার অবস্থান মজবুত হবে নাকি সবগুলো বিষয় নিয়ে সাধনা করলে অবস্থান মজবুত হবে। উত্তর হল যে ৪ বছর একটি বিষয় নিয়ে সাধনা করবে তার অবস্থান মজবুত হবে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবার জন্যে যেমন কিছু রিকোয়ারমেন্ট ছিল তেমনি প্রতিটি বিষয়েও কিছু সংখ্যক রিকুয়ারমেন্ট রয়েছে।

রোবটিক্স:

রোবটিক্স যদিও ইলেক্ট্রিকালের একটি সাবজেক্ট কিন্তু এতে প্রোগ্রামিং এর অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। এর জন্যে আপনাকে মেসিন ল্যাংগুয়েজ সম্পর্কে ভালভাবে ধারণা নিতে হবে। যদি রোবটিক্স যাবারই ইচ্ছে থাকে তাহলে EEE ই বেস্ট হবে। তবে মনে রাখতে হবে আপনাকে ফিজিক্স এবং গণিতে অসম্ভব রকমের পারদর্শী হতে হবে এবং ভার্সিটি নির্ধারণ করার পূর্বে খুজ নিয়ে দেখুন সেই ভার্সিটিতে রোবটিক্সের জন্যে ক্লাব আছে কিনা।

গেইম ডেভলাপমেন্ট:

শতকরা ৮০ ভাগ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র কিংবা ছাত্রি গেইমে ইন্টারেস্টেড। তার মধ্যে অনেকেই সপ্ন দেখেন, নিজের তৈরী গেইম বিশ্ববাসী খেলবে। যদিও বাংলাদেশে স্পেসিফিকভাবে গেইমের জন্যে কোন ৪ বছর মেয়াদী কোর্স নেই। তবে আপনি চাইলে মাল্টিমিডিয়ার কোর্স্ করেও গেইম নিয়ে কাজ করতে পারেন। একটি গেইমের অনেকগুলো পার্ট রয়েছে। গেইম শুধুমাত্র প্রোগ্রামিং এ সীমাবদ্ধ নয়। এতে রয়েছে ৩ডি, ২ডি আর্ট, সাউন্ডের কাজ, পিজিক্স ইঞ্জিনের সমহার এবং সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয় প্রোগ্রামিং এর মধ্যমে। আপনি সি.এস.ই তে পড়লে প্রোগ্রামিং এর পার্টটুকু শিখতে পারবেন তবে অন্য বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা আপনার জন্যে অনেকটা জটিল হয়ে যাবে। এই জন্যে মাল্টিমিডিয়ার কোন কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। ড্যাফডিল এবং শান্তা মরিওম মাল্টিমিডিয়ার উপর ৪ বছর মেয়াদী কোর্স অফার করছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন:

নতুন করে বলার কিছু নাই, ক্রিয়েটিভিটি যাদের মধ্যে আছে এবং আর্ট ভাল পারেন তারা ক্যারিয়ার গড়তে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইন এ।

নেটওয়ার্কিং:

যদি নেটওয়ার্কিং নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে খুজ নিয়ে দেখুন যে ভার্সিটিতে ভর্তি হতে চাচ্ছেন সেই ভার্সিটি কী CISCO সার্টিফাইড কিনা। বাংলাদেশে অন্যতম CISCO সার্টিফাইড ভার্সিটি হল AIUB

সফটওয়ার ডেভলাপমেন্ট:

মুটামুটি ৫০ শতাংশ সি.এস.ই পড়ুয়া ছেলে মেয়ের ইচ্ছে একজন সফটওয়ার ডেভলাপার হওয়া। হয়ত আপনিও সফটওয়ার ডেভলাপার হতে চান। সবাই চাইলেই প্রবলেম সলভার হতে পারে না কিন্তু আপনি চাইলেই সফটওয়ার ডেভলাপার হতে পারবেন। এই সফটওয়ার ডেভলাপমেন্টের রয়েছে অসংখ্য প্লেটফর্ম। রয়েছে ওয়েব প্লাটফর্ম রয়েছে ডেক্সটপ কিংবা মোবাইল। প্রথমে প্লাটফর্ম নির্বাচন করুন। অতঃপর আরো গভীরে গিয়ে চিন্তা করেন। আপনি কিসের সাথে কাজ করতে চান?

Leave a Comment

error: Content is protected !!